খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ শনিবার সকালে নগরীর খালিশপুরস্থ ১০ ও ১১ নং ওয়ার্ডের মশক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী তিন মাসের পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি আজ এ এলাকায় পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময়কালে এলাকার বাস্তব অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দশ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণে ঠিকাদার নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ করছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়েছেন। এ অঞ্চলে কর্মরত কেসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও গাফিলতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে এ অঞ্চলের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হবে। বিশেষ করে ড্রেনগুলি পুনরায় নির্মাণ করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য ফেলে ছোট ড্রেনগুলি বন্ধ করে ফেলা হয়েছে যা কম্য নয়। একই সাথে তিনি ড্রেনের সাথে সেপটিক ট্যাঙ্কের সংযোগ বন্ধ করার বিষয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রশাসক ১০ ও ১১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পানি নিষ্কাশন ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র্যালির নেতৃত্ব দেন। কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আনিসুর রহমান, সমাজসেবক এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন ও সামছুর রহমানসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ র্যালীতে অংশগ্রহণ করেন।
পরে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বানিয়াখামার জনকল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘হাসিমুখ ফাউন্ডেশন’ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। খুলনা প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক মো: তরিকুল ইসলাম, কেসিসি’ সাবেক কাউন্সিলর মাজেদা বেগম, সমাজসেবক হাসান মেহেদী রিজভী, শামীম মহিবুল্লাহ, আব্দুল জব্বার, মেশকাত আলী, রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু কৈয়া বাজার সংলগ্ন বেদে পল্লীতে বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে মশারি, ঔষধ ও খাবার বিতরণ করেন। লায়ন্স কাব-খুলনা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এছাড়া সংস্থাটি বেদে পল্লীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পও পরিচালনা করে। প্রশাসক জনহিতকর এ উদ্যোগ গ্রহণ করায় সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান। লায়ন্স কাব-খুলনার কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
