জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তার কবিতায় গ্রামবাংলার নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। তিনি “রূপসী বাংলার কবি” হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। এছাড়া কবি বুদ্ধদেব বসু তাকে "নির্জনতম কবি" এবং অন্নদাশঙ্কর রায় তাকে "শুদ্ধতম কবি" বলে অভিহিত করেন।
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরের একটি বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
জীবদ্দশায় তার কবিতা ‘দুর্বোধ্য’ হিসেবে বিবেচিত হলেও মৃত্যুর পর থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে তার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৯৯ সালের দিকে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হন।
জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে 'বনলতা সেন', 'রূপসী বাংলা', 'ঝরা পালক', 'ধূসর পাণ্ডুলিপি', 'মহাপৃথিবী' এবং 'বেলা অবেলা কালবেলা'।
জীবদ্দশায় তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত হলেও, তাঁর মৃত্যুর পর ট্রাঙ্ক থেকে ২১টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্পের পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে 'মাল্যবান' ও 'সুতীর্থ' অন্যতম।
আজ ২২ অক্টোবর ২০২৬ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে এক মর্মান্তিক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রতি বছর এই দিনে তাঁর জন্মস্থান বরিশালের 'কবি জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি মিলনায়তন'সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানাবিধ আলোচনা সভা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম প্রয়ান দিবসে বাংলা আওয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
