"ফিরিয়ে দাও ঘাতক কাঁটা,এবার আমি গোলাপ নেবো" প্রতিপাদ্য কে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে উদযাপন করা হয়েছে উদীচীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
শনিবার বিকালে অপরাজেয়'৭১এ এই আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঠাকুরগাঁও জেলা সংসদ।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সানাই বাদক মিলন দাস।
জেলা সংদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি সেতারা বেগমের সভাপতিত্ব বক্তব্য দেন, জেলা সংসদের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হোসেন মোতাহার,আবু মহিউদ্দিন,সহসভাপতি অমল টিক্কু,সহসাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক,সংগঠন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাফি প্রমূখ। সঞ্চালনা করেন অনুষ্ঠান সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু।
পরে গণসংগীত শিল্পী জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মনের নেতৃত্বে দলীয় ও একক গণসংগীত পরিবেশন এবং সংগঠনের আবৃত্তি শিল্পীরা আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
এসময় চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য যে,গত ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি সেতারা বেগম বলেন,১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর বিপ্লবী কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক সত্যেন সেনের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা,স্বাধীনতা এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মানের স্বপ্ন নিয়ে এর যাত্রায় যুক্ত হয়েছিলেন প্রগতিশীল লেখক,সাংবাদিক,সাংস্কৃতিককর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উদীচী শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়,সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে।গান,নাটক,আবৃত্তি,চলচিত্র ও চিত্রকলার মধ্য দিয়ে শোষণ,বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলেছে।
সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু জানান,মেহনতি মানুষের মুক্তি ও সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে উদীচীর পথচলা।সাম্য,স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে সংগঠনের দীর্ঘ পথচলায় এসেছে নানা আঘাত ও বিপর্যয়। যশোর ও নেত্রকোনা বোমা হামলায় প্রান দিয়েছেন শিল্পীকর্মীরা।গত ডিসেম্বরে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়। তবুও অদম্য প্রত্যয়ে উদীচীর পথচলা থেমে থাকেনি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
