নিজস্ব প্রতিবেদক: শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ রাজধানী ঢাকায়ও শীতের তীব্রতা বাড়ছে। পৌষ মাস শুরুর আগেই হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়ছে জনজীবন। সঙ্গে কুয়াশার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই।
শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহের বার্তায় হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞদের চেম্বারেও রোগীর সংখ্যা লম্বা হচ্ছে। জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শীতজনিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
কুয়াশায় ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে শীতের দাপট
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ঢাকার আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। দুপুরের পর কিছুটা পরিষ্কার হলেও বিকেল হতে আবারও কুয়াশায় ঢেকে যায় পুরো শহর। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, দিন যত বাড়বে কুয়াশার পরিমাণও তত বাড়বে। ঢাকায় শুক্রবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিল্লি থেকে বাংলাদেশে শীতের প্রভাব
ভারতের দিল্লি ও উত্তর প্রদেশে ইতিমধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেখানকার কুয়াশা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর ফলে বায়ুদূষণসহ শীতের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটের সাবেক প্রধান শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, শিশু এবং বৃদ্ধদের শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে বাড়তি যত্ন নিতে হবে। বিশেষ করে নবজাতকদের মায়ের কোলে রাখা, ঘর গরম রাখা এবং বাহিরে বের হলে মাথা, নাক-কান ঢাকা জরুরি।
বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা. তৌফিকুর রহমান ফারুক বলেন, শীতের কারণে রক্তনালির সংকোচন ঘটে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং শরীর গরম রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমি বলেন, শীত ও বায়ুদূষণের কারণে ইএনটি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। নাক-কান-মাথা ঢাকা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফুটপাতে পুরোনো কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে
শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষ ফুটপাতে পুরোনো কাপড় কেনায় বেশি ঝুঁকছে। এতে ব্যবসায়ীদের বিক্রি জমজমাট।
আবহাওয়াবিদদের মতে, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি বা এর নিচে নামলে সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
