ঢাকা, সোমবার: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তিনি বলেন, অতীতের প্রতারণার ইতিহাস ভবিষ্যতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির আয়োজিত "সাতচল্লিশ-একাত্তর-চব্বিশ: আমাদের বিজয়ের পথপরিক্রমা" শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাজনীতিবিদরা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। আপনারা সংসদমুখী হচ্ছেন, মন্ত্রণালয় দখল করবেন, গাড়িতে পতাকা উড়বে—এসব আমাদের কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু আমরা রক্ত দিয়েছিলাম যেন সঠিক ব্যক্তিরাই ক্ষমতায় আসে। অথচ আপনারা প্রতারণা করে যাচ্ছেন।”
তিনি ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪-এর প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, “৪৭ সালে যদি বিজয় হতো, তাহলে ৭১ এর প্রয়োজন পড়ত না। আবার ৭১ এর বিজয় পূর্ণ হলে ২৪ এর অভ্যুত্থানের দরকার হতো না। এটি বিজয়ের পথপরিক্রমা নয়, বরং প্রতারণার ধারাবাহিকতা। আজও আমরা প্রতারিত হচ্ছি কিনা, সেটি আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
৭২ সালের সংবিধান নিয়ে হাসনাত বলেন, “সংবিধানটি জনগণের মতামত ছাড়াই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছিল। এটি একটি গার্বেজ। ৫ আগস্টের পর এই সংবিধানের কার্যকারিতা শেষ। যারা এই সংবিধানের প্রতি মমত্ববোধ দেখাচ্ছেন, তারা জাতিকে প্রতারণার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আজ রাষ্ট্রপতির দাওয়াতে গিয়েছেন যারা, তারা বিপ্লবে বিশ্বাস করে না বা সংবিধানে তাদের স্টেক আছে বলে মনে করে। কিন্তু আমি সেখানে যাওয়াকে নিজের সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করি।”
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্যা গালিব, জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহিন সরকার।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
