তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান তার সরকারের চলমান প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত’ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে পিকেকে (কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি) সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) আঙ্কারায় একে পার্টির যুব কংগ্রেসে বক্তব্যে এরদোগান বলেন, “এই দেশের যুবকদের প্রতারণা করে পাহাড়ে অপহরণ করা সন্ত্রাসীদের দিন শেষ। আমরা আমাদের যুবকদের সন্ত্রাসবাদের বর্বরতার মধ্যে হারিয়ে যেতে দেব না।”
এরদোগান জানান, সরকার পিকেকে কার্যক্রম কমাতে এবং যুবসমাজকে এই সংগঠনে যোগদান থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। শিশুদের জোরপূর্বক যোগদান এবং তাদের বিভ্রান্ত করার ঘটনায় ভয়াবহ পরিণতির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, পিকেকের ৪০ বছরের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পিকেকের ইতিহাস ও কার্যক্রম
পিকেকে ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তথাকথিত কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী অভিযান চালিয়ে আসছে। পরে এটি ইরাক ও সিরিয়াতেও কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়। সংগঠনটির হামলায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।
তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিকেকেকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে। এই গোষ্ঠীটি শিশুদের পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধ শেখানোর জন্য কুখ্যাত। শিশুদের দিয়ে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করানোর পাশাপাশি তাদের অনেককে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে বা সংগঠন থেকে পালানোর চেষ্টার সময় হত্যা করা হয়েছে।
এরদোগানের বক্তব্যের মাধ্যমে তুরস্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। দেশটির যুবসমাজকে সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে রক্ষা করতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
