১১ মে, ঢাকা — হজ ও ওমরার সময় অনেক মুসল্লি মক্কার বাইতুল্লাহ শরিফের মূল জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে দূরবর্তী হোটেল, মসজিদ চত্বর কিংবা আশপাশের স্থানে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশগ্রহণ করেন। তবে ফিকাহ বিশারদদের মতে, এভাবে দূর থেকে ইকতিদা করলে নামাজ সহিহ হয় না, যদি কাতারের সংযোগ না থাকে।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার মুফতি ও মুহাদ্দিস ইসহাক মাহমুদ বলেন, “ইকতিদা সহিহ হওয়ার জন্য কাতারের সংযোগ, অর্থাৎ ইত্তেসাল থাকা আবশ্যক। শব্দ শোনা বা চত্বরের ভেতরে অবস্থান করাই যথেষ্ট নয়।”
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, মক্কা টাওয়ার, যমযম টাওয়ার, সাফওয়া টাওয়ার, মসজিদে আবু বকর, মসজিদে উমর, মিসফালা, হিজরা রোড, কবুতর চত্ত্বরসহ আশপাশের এলাকাগুলো হারামের সীমানার মধ্যে থাকলেও, তা মসজিদের অংশ নয়। তাই সেখানে দাঁড়িয়ে মূল জামাতের সঙ্গে ইকতিদা করার ক্ষেত্রে কাতারের সংযোগ না থাকলে নামাজ সহিহ হবে না।
মুফতি ইসহাক মাহমুদ আরও বলেন, “শব্দ শোনা যাওয়া ইকতিদা সহিহ হওয়ার মানদণ্ড নয়। যারা এইভাবে দূর থেকে ইকতিদা করেন, তারা আবেগের বশে করেন। কিন্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে তা যথাযথ নয়।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এ বিষয়ে সৌদি সরকারের উদাসীনতা বোধগম্য নয়। তারা চাইলে এই বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে পারে, যাতে মুসল্লিরা বিভ্রান্ত না হন।”
এই ফতোয়ার পেছনে তিনি ‘বাদায়েউস সানায়ে’ (১/১৪৬) এবং ‘ফতোয়া হিন্দিয়া’ (১/৮৭) গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেন।
এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যেন হজ ও ওমরার সফরে গিয়ে কেউ অজ্ঞতাবশত এমন ভুল না করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
