আসন্ন কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমজমাট হয়ে উঠেছে কুরবানির পশুর বাজার। জেলায় ১৫ হাজারের বেশি খামারে লালন-পালন করা হচ্ছে লাখাধিক গবাদিপশু। তবে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশ থেকে গরু আমদানি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যেন বিদেশি গরু আমদানি না হয়—তা না হলে স্থানীয় খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ১৪ হাজার ৭৯২টি গবাদিপশুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে গরু ৯৯ হাজার ৫৬৭টি, মহিষ ১২ হাজার ১৬৬টি, ছাগল ১৫ হাজার ৩২১টি ও ভেড়া ৮ হাজার ৫৮১টি প্রস্তুত করা হয়েছে কুরবানির জন্য।
সদর উপজেলার নবাব এগ্রো ফার্মের মালিক আশরাফুল ইসলাম শাকিল জানান, তাদের খামারে রয়েছে ৭০-৮৫টি দেশি ও বিদেশি জাতের গরু, যেগুলোর দাম দুই থেকে ছয় লাখ টাকার মধ্যে। একইভাবে পৌর শহরের প্রিন্স এগ্রো ডেইরি ফার্মে প্রায় ২০০টি গরু রয়েছে, যেগুলোর দাম দেড় লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত। খামারটির বড় দুইটি বলদের ওজন ৮৩০ থেকে ১৪০০ কেজি পর্যন্ত।
প্রিন্স এগ্রো ডেইরির মালিক ফুরকান উদ্দিন বলেন, “ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এই খামার গড়েছি। ভারত থেকে গরু আসলে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বো। সরকারের উচিত দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা দেওয়া।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলাম জানান, জেলার চাহিদা পূরণের পরও অতিরিক্ত কয়েক হাজার পশু থাকবে। খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সরকার যদি বিদেশি গরুর প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এ বছর স্থানীয় খামারিরা কুরবানির বাজারে ভালো লাভের আশা করছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
