ইসলামে কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব। আদম (আ.) থেকে শুরু করে সকল নবী-রাসুলের যুগেই কুরবানি পালিত হয়েছে। এটি ইসলামের প্রতীকী বিধানের (শাআইরে ইসলাম) অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে মুসলমানের আত্মত্যাগ, আনুগত্য এবং সামাজিক সহমর্মিতা প্রকাশ পায়।
কুরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে— “আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন।” (সুরা কাওসার: ২)। আরেক আয়াতে নবীজিকে বলা হয়েছে, “আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মৃত্যু—all for আল্লাহ, রাব্বুল আলামিন।” (সুরা আনআম: ১৬২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরবানিকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে, হাদিসে এসেছে: “যে ব্যক্তি কুরবানির সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১২৩)
কুরবানির পশুর শর্ত:
কুরবানির জন্য অবশ্যই সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত পশু নির্বাচন করতে হবে। নিন্মোক্ত ত্রুটিসমূহ থাকলে কুরবানি জায়েজ হয় না—
রুগ্ন ও দুর্বল পশু: যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না।
দাঁতহীন পশু: এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে খাদ্য চিবাতে পারে না।
শিং ভেঙে যাওয়া পশু: শিং গোড়া থেকে ভেঙে গিয়ে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে কুরবানি জায়েজ নয়।
কান বা লেজ কাটা: অর্ধেক বা তার বেশি কাটা থাকলে কুরবানি বৈধ নয়।
অন্ধ পশু: দুই চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ বা একটি চোখ পুরো নষ্ট হলে কুরবানি অবৈধ।
গর্ভবতী পশু: কুরবানি বৈধ হলেও, প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে তা মাকরূহ।
এছাড়া যদি ভালো পশু কেনার পর তাতে ত্রুটি দেখা দেয়— যা কুরবানিকে অবৈধ করে— তাহলে তা দিয়ে কুরবানি করা যাবে না। আরেকটি পশু কুরবানি করতে হবে, তবে গরিব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দিয়েই কুরবানি করা যাবে।
বিক্রেতার ওপর নির্ভর করে পশুর বয়স নির্ধারণ করা যায়, যদি তা শরীরের অবস্থানুযায়ী বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।
কুরবানির সামাজিক গুরুত্ব:
কুরবানি কেবল একটি ধর্মীয় ইবাদত নয়, বরং এটি গরিব-দুঃখী, প্রতিবেশী ও সমাজের সঙ্গে সহমর্মিতা গঠনেরও উপায়। এটি মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ত্যাগের মানসিকতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মউৎসর্গের চেতনা জাগ্রত করে।
সম্পাদনা: সাঈদুল ইসলাম
তথ্যসূত্র: কোরআন, হাদিস, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, বাদায়েউস সানায়ে, আলমগীরী ইত্যাদি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
