চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোর বেড়িবাঁধগুলো মে থেকে জুন মাসে টানা ভারি বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের চাপে ভেঙে পড়েছে। এতে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের।
উপজেলার ছনুয়া, শেখেরখীল, সরল, বাংলা বাজার, মনকিচর, খানখানাবাদ, বাহারছাড়া, পুকুরিয়া ও গণ্ডামারা সহ একাধিক এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কয়েকশ মিটার থেকে একাধিক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ধসে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ছনুয়া এলাকাতেই প্রায় ২ কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সরল বাজার, বাংলা বাজার, সরকার বাজার ও গণ্ডামারার বিভিন্ন স্থানে আরও বহু অংশে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মাছের ঘেরে লবণাক্ত পানি ঢুকে বহু ক্ষতি হয়েছে। পুকুরিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম জানান, “তেচ্ছিপাড়া এলাকায় শঙ্খ নদীর ভাঙনে লোকালয়ে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ক্ষতি করেছে।” খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, “বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ক্ষতি হয়েছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেড়িবাঁধের অবস্থান চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে একটি তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, “প্রতিবারই বর্ষা আসলে বাঁধ ভাঙে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আসে না।” তাদের অভিযোগ, বারবার এমন ভাঙনের ফলে একদিকে যেমন জীবিকা সংকটে পড়ছেন তারা, অন্যদিকে ফসল উৎপাদনেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
বাঁশখালীর উপকূল রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশ ও স্থানীয় উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
