সুন্দরবনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের লোকালয়ে বাঘের দেখা ও ধানক্ষেতে পায়ের ছাপ মেলায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বাঘ ঢোকার খবর ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে ভয় দেখা দিয়েছে। বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ও সুরক্ষায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ধানক্ষেতের ওপর ড্রোন উড়িয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে ও জনগণকে সতর্ক করতে দিনভর মাইকিং করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গেল রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পূর্ব সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের বাড়ির সামনে এবং আবু রাজ্জাক আকনের মাছের ঘেরের পাড়ে বাঘের পায়ের ছাপ প্রথম দেখতে পান এলাকাবাসী। জাব্বার ডাক্তারের বাড়ি ও লতিফ মেম্বারের বাড়ির সামনের ধানক্ষেত এবং সবজি খেতের আলেও বাঘের তাজা চলাচলের চিহ্ন মিলেছে।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ও স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ বনরক্ষী, কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপ (সিপিজি) এবং ভিটিআরটি (গ্রাম্য ব্যাঘ্র সাড়াদানকারী দল) সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
লোকালয়ে বাঘ আসার ঘটনায় গ্রামের মানুষের রাতের চলাফেরা অনেকাংশে কমে গেছে। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর রাতেও একই গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় ভোলা নদী সাঁতরে একটি বাঘ ঢুকে পড়েছিল। বারবার বাঘ লোকালয়ে চলে আসায় সাধারণ গ্রামবাসী চরম উদ্বিগ্ন।
সিপিজির সহকারী টিম লিডার মো. সাচ্চু আকন ও টিম লিডার মো. খলিল জোমাদ্দার জানান, সোমবার সকাল থেকে শরণখোলা, পানিরঘাট, সোনাতলা, মডেলবাজার ও পূর্ব সোনাতলা গ্রামের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জনসাধারণকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের জন্য মাইকিং করা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে সোমবার দিনভর পূর্ব সোনাতলা গ্রামের ধানক্ষেতের ওপর ড্রোন উড়িয়ে বাঘের অবস্থান খোঁজা হয়েছে, তবে বাঘটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বাঘটি সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ারও কোনো সুস্পষ্ট আলামত দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ভোলা নদী সাঁতরে বাঘটি লোকালয়ে এসেছে। বনরক্ষীসহ ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বন বিভাগের কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ জানান, বাঘটি যাতে হিংস্র না হয়ে স্বাভাবিকভাবে সুন্দরবনে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাঘটির কাছে না গিয়ে কোনো আলামত দেখলে অবিলম্বে বন বিভাগকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
