নীল আকাশে মেঘের ভেলা, নদীর ধারে কাশফুলের দোল—প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের সঙ্গে মিশে গেছে ঢাকের বোল। দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা জানাতে আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকা। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। চলবে আগামীকাল শনিবার রাত পর্যন্ত।
প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগমুহূর্তে আয়োজিত এই হাটে ঢাক-বাঁশির এক অনন্য সম্মিলন দেখা যায়। এখানে ঢাক বা বাঁশি কেনাবেচা হয় না; বরং পূজারি ও কমিটিগুলো নিজেদের পছন্দের বাদ্যযন্ত্রের সুর শুনে দল বেঁধে চুক্তিবদ্ধ করেন ঢাকিদের সঙ্গে। পরে পূজার মণ্ডপে গিয়ে বাজনা করেন তারা।
এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা—মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক শ ঢাকি এসে জড়ো হয়েছেন এই হাটে। পূজা কমিটিগুলোও নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে তাদের পছন্দমতো বাজনা দেখে চুক্তি করছেন।
ঢাকিদের কেউ কেউ আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো আর জমজমাট নেই হাট। এখন অনেক চুক্তিই ফোনে হয়ে যায়। ফলে অনেক ঢাকি আর আসেন না। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা এখনও দলবল নিয়ে চলে আসেন কটিয়াদীতে।
ঢাকিদের দেখাশোনার জন্য রয়েছে একটি কমিটি। হাট পরিচালনা কমিটির বাবু জিৎ সাহা জানান, তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থায় তারা সহযোগিতা করছেন। অন্যদিকে, সার্বিক নিরাপত্তায় প্রশাসনও সক্রিয়। কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, ঢাকিদের যেন কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়ে প্রশাসন নজরদারি করছে।
জনশ্রুতি আছে, ১৬০০ শতকের প্রথমভাগে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় দুর্গাপূজার জন্য বিক্রমপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকি আমন্ত্রণ করেন। সেই সময় নৌপথে অসংখ্য ঢাকি কটিয়াদীতে সমবেত হন। সেখান থেকেই সূচনা হয় এ ঢাকের হাটের, যা এখনও পূজাকে কেন্দ্র করে এক অনন্য সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে চলছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
