ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

সেনা হেফাজতে বিচারাধীন কর্মকর্তারা: ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

জাতীয় | নিজস্ব প্রতিবেদক

(৯ মাস আগে) ১৪ অক্টোবর ২০২৫, মঙ্গলবার, ৩:৪৪ অপরাহ্ন

banglahour

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা সেনানিবাসের একটি নির্দিষ্ট ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা বর্তমানে সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।
সেনাবাহিনী সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তাকে নিজেদের হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলার নির্দিষ্ট তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁদের হাজির করা হবে এবং আদালতের কার্যক্রম শেষে পুনরায় সেনাবাহিনীর হেফাজতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের ভাবনা হলো, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা সেনা হেফাজতে থাকবেন।
এই বিশেষ ব্যবস্থার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে - সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার শুরু হলে যেন সাধারণ সেনা সদস্যদের মনোবলে কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে। সুশৃঙ্খল এবং গৌরবময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের সম্মান ও আস্থা অটুট রাখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই প্রসঙ্গে ভিন্ন মতও উঠে আসছে। প্রশ্ন জাগছে, আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতি কি তাহলে বিশেষ পরিস্থিতিতে শিথিল হচ্ছে?
অতীতে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক (অব.) আব্দুর রহিম এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী-এর মতো চৌকস কর্মকর্তারা ফৌজদারি মামলায় সাধারণ কয়েদিদের সাথে দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দী ছিলেন। এমনকি, মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম ২০২১ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন। সেসময় কিন্তু সেনা সদস্যদের মনোবল বা 'ইজ্জত স্পৃহা' নিয়ে কোনো বিশেষ আলোচনা প্রকাশ্যে আসেনি।
এছাড়াও, চৌকস সেনা অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী-কে দীর্ঘ ৮/৯ বছর ধরে নিজ বাহিনীর হাতে 'গুমের' শিকার হয়ে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী থাকতে হয়েছে। সেই কঠিন সময়েও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নৈতিক মনোবলের বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা বা বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে, রাষ্ট্র যদি সামগ্রিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তা গ্রহণীয় হতেই পারে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী এবং জাতি হিসেবে আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত। আমরা সেনাবাহিনীর এই বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে চাই যে, "ইনসাফের ব্যাপারে নো কম্প্রোমাইজ"।
জাতি হিসেবে আমরা আশা রাখব, ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে যেন তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান অবিচল থাকে এবং সুবিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করা না হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯