ফকির লালন শাহ ছিলেন একাধারে একজন বাঙালি আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক এবং মরমী কবি। তিনি বাউল গানের অন্যতম অগ্রদূত এবং তাকে 'বাউল-সাধক" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
লালনের জন্ম ও পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে গবেষকদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ধারণা করা হয়, তিনি ১৭৭৪ সালে বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া বা যশোর অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। কোনো কোনো গবেষকের মতে, তিনি কায়স্থ হিন্দু পরিবারে জন্মেছিলেন এবং পরে সিরাজ সাঁইয়ের সান্নিধ্যে এসে বাউল ধর্মে দীক্ষিত হন। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়াতে তার আখড়া বা সাঁইজি সম্প্রদায় গড়ে তোলেন।
লালন শাহের দর্শনের মূল কেন্দ্রে ছিল "মানুষ"। তিনি জাতপাত, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সামাজিক বিভেদের তীব্র বিরোধী ছিলেন। তার মতে, সব মানুষের উর্ধ্বে হচ্ছে মানুষের মানবিক পরিচয়। তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বেড়াজালে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি, বরং হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।
লালন ছিলেন অসংখ্য কালজয়ী গানের গীতিকার ও সুরকার। মুখে মুখে রচিত তার প্রায় দুই হাজারেরও বেশি গান গ্রাম-বাংলা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে সমাদৃত।
তার বিখ্যাত কিছু গানের কথা হলো:
"সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে"
"খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়"
"এমন মানবজনম আর কি হবে"
বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে লালন শাহ ১২তম স্থানে স্থান পেয়েছিলেন।
লালন শাহ ১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন।
প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় তাঁর আখড়াবাড়িতে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশ-বিদেশের হাজারো সাধু, বাউল ও ভক্তরা সমবেত হন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
