অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন সরকারের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় করা ৩ লাখ কোটি টাকার একটি বড় অংশই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের পকেটে গেছে। বিশেষ করে, রেন্টাল ও কুইক-রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে এ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বছরে মাত্র ১২ থেকে ১৬ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সামিট, ওরিয়ন, দেশ এনার্জি, ডরিন পাওয়ার এবং ইউনাইটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে।
রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি ও ক্ষতি
২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির বিশেষ আইন প্রণয়ন করে রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে। শুরুতে তিন বছরের জন্য এসব কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হলেও তা বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকারিতা ছিল খুবই নিম্নমানের।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, ৩২টি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ২৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ না কিনলেও চুক্তি অনুসারে বিপিডিবি এই অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছে। এতে বিপিডিবি প্রতিবছর ৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রেন্টাল ও কুইক-রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়মুক্তি আইন স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের সম্পদ অপচয়ের এই ঘটনা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
