বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য একটি বহুমাত্রিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত, যা মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে। জাতিসংঘের মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স (MPI) ২০২৪ অনুযায়ী, বর্তমানে ১.১ বিলিয়ন মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। এই বাস্তবতায় দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শুধু ধর্মীয় আচারে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক, এবং নৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠার দিকেও নির্দেশনা দেয়। দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এগুলো হলো: ইতিবাচক কৌশল, প্রতিরোধমূলক কৌশল, এবং সংশোধনমূলক কৌশল।
ইতিবাচক কৌশলের মধ্যে আয় বৃদ্ধি, কার্যকরী আয়ের বণ্টন এবং সমান সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে হালাল উপার্জনের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে এবং মানুষের কর্মে নিয়োজিত হওয়া উৎসাহিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে (সূরা আল-মুলক, আয়াত ৬৭:১৫) বলা হয়েছে, "মানুষের উচিত জীবিকার সন্ধান করা এবং আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদকে কাজে লাগানো।"
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, **"তোমাদের কেউ যদি পাহাড়ে গিয়ে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে নিজের প্রয়োজন মেটায় এবং বাকিটুকু দান করে, তবে তা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম।"** (বুখারী ১৪৮০)।
ইসলামের এই দৃষ্টিভঙ্গি দারিদ্র্য বিমোচনে একটি সমন্বিত এবং সুষম উপায়ের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক দারিদ্র্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামের এই শিক্ষাগুলো কাজে লাগানো হলে তা কার্যকর সমাধান হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
