ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ

জাতীয় | অনলাইন ডেস্ক

(১ বছর আগে) ১৬ নভেম্বর ২০২৪, শনিবার, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

banglahour

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যেখানে বলা হয়েছে– জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।

সরকার যদি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় বা হোঁচট খায়, তাহলে বাংলাদেশ আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। এমনকি, সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে; এমন কথাও বলা হচ্ছে প্রতিবেদনে।

গত ১৪ নভেম্বর রাতে প্রকাশিত ‘আ নিউ এরা ইন বাংলাদেশ? দ্য ফার্স্ট হানড্রেড ডেজ অব রিফর্ম’ শীর্ষক সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সহকর্মীদের প্রতি মানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই সরকারের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আশা ভঙ্গ হলে মানুষের মাঝে সাধারণত অনেক বেশি হতাশা, ক্রোধ বা ক্ষোভের জন্ম হয়।

এই সমীকরণ যে বর্তমান বাস্তবতার বেলায়ও সত্য, তা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। সর্বশেষ উদাহরণ হলো, ‘চিকিৎসার দাবিতে’ জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের সড়কে নেমে আসা।

অন্তর্বর্তী সরকার ও তার চ্যালেঞ্জ

ব্রাসেলসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা আইজিসি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার তিন মাস পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের এজেন্ডা আরও স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সামনের পথের ‍রূঢ় বাস্তবতাও ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।

সরকার এখনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হিমশিম খাচ্ছে, অর্থনীতি ধীর গতিতে এগোচ্ছে, বিভিন্ন পক্ষের একের পর এক বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে এবং এই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান আকাঙ্ক্ষা– নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই মানুষ তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা জানাচ্ছে। এটি একদিক থেকে ভালো যে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের কাছে সমস্যার কথা জানাতে পারছেন।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে বলেই বিক্ষোভ-কর্মসূচি বাড়ছে। সেইসঙ্গে, সবকিছু মেনে নেওয়ায় মানুষ বিরক্তও হচ্ছে, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, সরকার সব দাবি গ্রহণ করছে। সরকারের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠছে মব, এটা ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়া, বৃহস্পতিবার খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য ক্রেতা হিসেবে নিজেও চাপে রয়েছেন। তবে সরকারের তরফ থেকে এরকম কথা শুনলে সাধারণ মানুষের মনে আশা নয়, নিরাশার সঞ্চার হয় বলে মনে করেন অধ্যাপক নাসরীন।

তার মতে, মানুষ সরকারের ওপর অনেকটাই বিরক্ত এখন। আর জনরোষ বাড়ার উপাদানও স্পষ্ট। মব সন্ত্রাস তৈরি হয়েছে, জনগণের অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে। গণপিটুনি, নারী নিপীড়ন, ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ কিছু অঞ্চলে ডাকাতি, চুরি ঘটছে। থানায়-আদালতে যেতে চাচ্ছে না মানুষ।

আইজিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখাটাও এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা নির্বাচন চাইছে…অধ্যাপক ইউনূসের মিত্ররাও সাংবিধানিক সংস্কার এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত নৃশংসতার জন্য জবাবদিহিতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন এখন।’

এই কথার সাথে একমত রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুমও।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, গত এক সপ্তাহের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের নেতৃত্বের মাঝে ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আইসিজি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে জনসমর্থন ধরে রাখা সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার যেসব সংস্কারমূলক কাজ করছে, সেগুলোর ফলাফল দ্রুত দৃশ্যমান করা প্রয়োজন। সংস্কার আনতে গিয়ে সরকার হোঁচট খেলে এর পরিণতি হবে “সামান্য অগ্রগতিসহ একটি আগাম নির্বাচন।” পরিণতি হিসাবে এখানে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম