ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি ও দায়িত্ব

মতামত | Md. Abul Kashem Bhuiyan, Project Director

(১ বছর আগে) ১৫ এপ্রিল ২০২৫, মঙ্গলবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন

banglahour

Executive, Management, Mental Qualities, Administration, Balance of Life & Qualities required by Manager and Accountability

 

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি ও দায়িত্ব

যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তাঁরা নাগরিকদের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বদলে সরকারের কাছে নাগরিকদের জবাবদিহি আদায় করতেই বেশি তৎপর। ফলে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানই সরকারের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়।

ধনী–দরিদ্রনির্বিশেষে বহু লোকই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অধিকতর জবাবদিহি চেয়ে থাকেন। যে বিধবা তাঁর পেনশনের দরখাস্তটার কী হলো, সে সম্পর্কে কোনো খবর পান না; যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাসের পর মাস তাঁর মজুরি পাননি, যে অসহায় মানুষটি ন্যায্য মাশুলের অঙ্ক বহুগুণ বাড়িয়ে পাঠানো বিদ্যুতের বিলের চোটে জেরবার, যে ট্রাকচালক দুর্নীতিগ্রস্ত ট্যাক্স অফিসারের তেলবাজির শিকার—এঁদের সবার একটাই চাওয়া, সরকারি কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কর্তব্য পালনের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে যেন বাধ্য থাকে।

গত ৪২ বছরে ঘড়ির কাঁটাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা ক্ষমতায় আসীন, তারা নাগরিকদের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বদলে সরকারের কাছে নাগরিকদের জবাবদিহি আদায় করতেই বেশি তৎপর। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানকেই সরকারের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত করা হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহি বাড়িয়ে তোলার জন্য নেওয়া বিভিন্ন নতুন উদ্যোগে নিশ্চয়ই কিছুটা কাজ হতে পারে। কিন্তু জবাবদিহির যোগ হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সঙ্গে। এগুলোর কাজ থেকে সর্বসাধারণের যেসব সুফল হওয়ার কথা, তা যে তাঁরা সত্যিই পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত করার সঙ্গে। তাই জবাবদিহির নিজস্ব সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়।

কার্যত জবাবদিহির ব্যাপারটা কাজ করে পুরস্কার ও শাস্তির বন্দোবস্তের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের কিছু পূর্বনির্দিষ্ট কাজ ঠিকমতো করানোর মধ্য দিয়ে। অথচ সরকারি কর্মচারীদের অনেক কাজকর্মই একেবারে নিচের স্তর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। যদি তা সম্ভব হয়ও, তাহলেও লোকেদের কাজ করতে দেওয়া এবং সেগুলো যাতে ঠিকমতো করা হয়ে ওঠে, তা তদারকি করার পূর্বনির্ধারিত কোনো ব্যবস্থা খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না। তা ছাড়া ‘পুরস্কার ও শাস্তির’ ব্যাপারটা একটা সীমিত পরিসরে কাজ করে, এর মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিজস্ব উদ্যোগ ও সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে না।

জবাবদিহি–সংক্রান্ত কিছু ব্যবস্থা হয়তো উৎকৃষ্ট মানের শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এদের সব কয়টিরই সীমাবদ্ধতা আছে।

আমাদের এটা মানতেই হবে যে দায়িত্ব পালন করা অনেক প্রশস্ত ব্যাপার, জবাবদিহি হলো তার একটামাত্র দিক। এটা ঠিক যে অন্যের কাছে জবাবদিহি করতে হবে বলে কোনো শিক্ষক নিজের কাজে দায়িত্বশীল হতে পারেন। কিন্তু বাচ্চাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করার তাগিদে, একজন ভালো শিক্ষক হিসেবে নিজের অন্তর থেকে উঠে আসা প্রেরণার কারণেও তিনি দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

প্রশাসন শব্দটি ল্যাটিন মিনিষ্টেরট শব্দ হতে উদ্ভব হয়েছে। যার অর্থ সেবা করা। কিন্তু আমাদের প্রশাসন শব্দটি এসেছে ইংরেজি ভাষার এ্যাডমিনিষ্টার শব্দ হতে। যার অর্থ আদেশ করা বা হুকুম চাপিয়ে দেওয়া।

হুকুমধর্মী উদ্যোগ ইগো (Ego) দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এখানে আদেশ, নিষেধ, বিধি, ইত্যাদি জারি করা হয় ইগো সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য । কাজেই হুকুম তামিল করা ব্যতীত অন্যদের আর কোন ভূমিকা থাকে না। হুকুমধর্মী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত প্রশাসনের এটাই স্বাভাবিক। এখানে আদেশ জারি ও সার্কুলারের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন হতে অধস্তনদের উপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তই প্রশাসন ।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ইগো’ তুষ্ট হলে সব কিছু ঠিক হয়েছে বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ “Administration is a kind of chorus song” । কোরাস  বা দলীয় সংগীতে এক বা একাধিক সদস্য যদি বেসুরে গান শুরু করে অথবা বিলম্বে শুরু করে তাহলে ছন্দ পতনের ফলে অনুষ্ঠানটি ব্যর্থ হবে অনুরূপ সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলে জনস্বার্থে পরস্পরকে একযোগে যথাসময়ে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হলে দলীয় সংগীতের মত প্রশাসন  ঈপ্সিত  লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হবে।

ঔপনিবেশিক আমলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বৃটিশদের হাতে থাকায় তারা প্রভুর মত আচরণ করতেন।

পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সন্দেহ প্রবণতা দূর করে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সহনশীলতা, শ্রদ্ধা ও আন্তরিকভাবে সম্মান প্রদর্শনের পারস্পরিক নীতি অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক। উন্নত দেশের প্রশাসন যন্ত্র গতিশীল ও সেবামুখী (service oriented) আর আমরা জনগণের সেবক মনে করার পরিবর্তে শাসক শ্রেণির উত্তরাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করার প্রবলতা লক্ষ্য করা যায়। অধিক কর্তৃত্ব আছে এমন গুরুত্বপূর্ণ  পদে দায়িত্ব পালন কালে ভুলে যান তিনি সাময়িক ভাবে ঐ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অহমিকা সেবাধর্ম (Service oriented) মনোভাবের স্থলে বিপরীত ধর্মী আচরণে উৎসাহ যোগাত । এ কথা মনে রাখা আবশ্যক যে পূর্বসূরীগন ক্ষমতার পদে নাই এবং বর্তমানে যারা আছেন তারাও বেশিদিন থাকবেন না।

জনগণ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট প্রত্যাশা করে সামাজিক নিরাপত্তা এবং সুবিচার। তারা চায় তাদের কাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন করে দেয়া হয়। কাজে দীর্ঘসূত্রিতা তাদের নিকট হয়রানিমূলক আচরণ মনে হয়। তারা সুবিচার চায় এবং হয়রানি ও যন্ত্রণা থেকে অব্যাহতি চায়।

জনগণ সমস্যা নিষ্পত্তি করতে বিলম্ব পছন্দ করে না। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে দক্ষ এবং সক্ষম হতে হবে। সততার সাথে বিশ্বাসযোগ্যতা ও পক্ষপাতহীনতা ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্বশীল, সত্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে সুবিচার করতে হয়।

সত্যবাদিতা স্বচ্ছ রাখতে সহায়তা করে। সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

 

ঐতিহাসিক আল ফারাবীর মতে একজন সরকারি কর্মকর্তা বা Executive এর যে সমস্ত গুণাবলি থাকা আবশ্যক তা হলোঃ

Ø  বুদ্ধিমত্তা (Intelligence): প্রশিক্ষণ, অধ্যয়নরত, অনুশীলন, এবং কর্ম অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বুদ্ধিমত্তা অর্জন ও প্রয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হয় ।

Ø  উত্তম মানের স্মৃতি শক্তি (Sharp Memory): অধ্যয়ন ও অনুশীলনের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা করতে হয়।

Ø  বাগ্মিতা (Oratory): নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বাগপটুতা আবশ্যক । বাকপটুতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে অন্যান্যদের মোটিভেট করতে হয়। 

Ø  দৃঢ়তা (Firmness): ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা কথায় ও কাজে সামজ্ঞস্যপূরণ দৃঢ়তা থাকতে হয়। ধীর স্থির হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা দৃঢ়তার সহিত বাস্তবায়ন করতে হবে। ধীর স্থির হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা দৃঢ়তা সহিত বাস্তবায়ন করতে হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃঢ়তা সাফল্য অর্জনের পূর্বশর্ত ।

Ø  ন্যায়পরায়ণতা (Equity & Justice): একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ন্যায়পরায়ণ হয়ে সুবিচার করার ইচ্ছা বা সংকল্প ব্যক্ত করতে হবে। ন্যায় বিচার করার মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রীতি প্রদর্শন করতে হবে। ন্যায়পরায়ণ হতে হলে কর্মকর্তাকে প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

Ø  উচ্ছল ও প্রাণবন্ত (Lively and smartness): নেতৃত্ব প্রদানকারী ব্যবস্থাপককে সপ্রতিভ, উচ্ছল ও প্রাণবন্ত হতে হবে । তাকে সকলের সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলতে এবং মিলেমিশে ও যোগাযোগ রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একজন সার্থক প্রশাসকের ধৈর্য ও বিনয় থাকা এবং হিংসা ও সংকীর্ণতা পরিহার করতে হবে।

প্রখ্যাত দার্শনিক ও ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম গাজ্জালীর মতে, একজন সার্থক ব্যবস্থাপকের ধৈর্য ও বিনয় থাকা এবং হিংসা ও সংকীর্ণতা পরিহার করার বিষয় উল্লেখ করেছেন।

Ø  ধৈর্য (Patience): ধৈর্য্যহীনলোক অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে অভ্যস্ত নয় এবং কোন কাজে লেগে থাকতে পারে না। একজনে ব্যবস্থাপকের সকলের কথা ধৈর্য সহকারে মনোযোগ দিয়ে শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং ধৈর্যশীল হয়ে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়।

Ø  বিনয় (Modesty): বিনয় ও ভদ্রতা মানুষের মহৎ গুণ। বিনয়ী না হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট হতে আদেশ গ্রহণ, অধস্তনদের আদেশ প্রদান এবং শিষ্টাচার রক্ষা করা যায় না ।বিনয়ী লোক অধিকাংশ লোকের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়। ফলে তিনি সহযোগিতা পান। কোন ব্যবস্থাপক যদি এ গুন বিবর্জিত হয় তা হলে তিনি হবেন দাম্ভিক, অভদ্র এ স্বৈরাচার। ফলে তিনি জনগণের আস্থাভাজন হতে পারেন না।

 

শেখ সাদীর উক্তিঃ আচার ব্যবহারে ভদ্র ও নম্র, বিনয়ী এবং অন্যকে সম্মান প্রদর্শনকারী ব্যক্তি সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসিত। বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের সময় এমসিএস জনাব বাহাদুর মুন্সী বলেছিলেন, কথিত আছে যে একজন লোক শেখ সাদীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, “তিনি কার নিকট এত আদব কায়দা শিখেছেন?” জবাবে শেখ সাদী বলেছিলেন যে “বেয়াদবের নিকট হতে তিনি আদব কায়দা শিখেছেন।”

প্রশ্নকর্তা জিজ্ঞেস করেছিলেন “কিভাবে?”  জবাবে শেখ সাদী বলেছিলেন, বে-আদব ও ইতর লোকেরা যা করে বা বলে তিনি তা করেন না বা বলেন না।”

বুদ্ধিমান ব্যক্তি যে কোন ব্যক্তির নিকট হতে কিছু শিখতে পারেন। তিনি অন্ধ অনুকরণ করেন না।

 

এ যুগের প্রশাসন বলতে কর্ম প্রবাহ তথা কাজ কর্মের ব্যবস্থাপনা বুঝায়। যার ব্যাপ্তি সকল সরকারি, আধসরকারি, বেসরকারি অফিস পর্যন্ত। প্রশাসন এমন একটা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যেখানে সংশ্লিষ্ট সকলকে (ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান) জনস্বার্থে লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হয়।

 

কর্মজীবনে জুনিয়র, সিনিয়র, ভদ্র, অভদ্র, দেশী, বিদেশি, সাদা, কালো, সকলের নিকট হতে অনেক কিছু শেখার আছে। তবে সব কিছু নির্ভর করে যিনি শিখতে চান তার স্বভাব, দৃষ্টিভঙ্গি এবং আগ্রহের উপর। সাধারণভাবে সকল মানুষ তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির গণ্ডি হতে সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। একটি মৌমাছি ফুল হতে মধু সংগ্রহ করে। আবার একই ফুল হতে ভোমরা, ভিমরুল, বোলতা বিষ সংগ্রহ করে। মাটি হতে রস সংগ্রহ করে আঙ্গুর, আপেল,, কমলা গাছ সুমিষ্ট আঙ্গুর, আপেল, কমলা দেয়। আবার সে মাটি  হতে রস সংগ্রহ গাছ টক ও বিষাক্ত ফল দেয়। অনুরুপ কোন বক্তার বক্তব্যকেও শ্রোতার তাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি মোতাবেক ব্যাখ্যা করে জ্ঞান/তথ্য আহরণ করে। সুতরাং গ্রহণকারীর স্বভাব, দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভ্যাস একটি উল্লেখযোগ্য ফ্যাক্টর।

 

কেহ যদি কাহারও প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন তাহলে তার প্রতি উত্তর অনুরুপ হওয়ার আশা করতে পারেন। আবার নিজের ভাল আচরণের প্রতিউত্তর ভাল আশা করতে পারেন। ইহা আসলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অঙ্গ ভঙ্গিমা বা পাহাড় পর্বতের নিকট ধ্বনি বা শব্দ করার পর তার প্রতিচ্ছবি ও প্রতিধ্বনির মত।

 

Ø  হিংসা (Jealousy): আগুন যেমন অন্য সব কিছু দাহ্য করে তেমনি হিংসা মানুষকে পুরে ছারখার করে । ব্যবস্থাপকের মনের মধ্যে হিংসার আগুন ছড়ালে তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রতিপক্ষের উপর জুলুম ও নির্যাতন করেন, যার ফলাফলের ফলে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের আস্থা হারাবেন। সুতরাং একজন ব্যবস্থাপককে হিংসা ও বিদ্বেষ পরিত্যাগ করে সংযমী ও সহনশীল হতে হবে ।

Ø  সংকীর্ণতা (Narrowness): সংকীণর্তা উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও ভালো কাজের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ইহা মানুষকে অন্তর্মুখী করে প্রগতির পথে অগ্রসর হতে নিরৎসাহিত করে। সংকীর্ণতা নেতিবাচক বিধায় ইহা প্রগতির অন্তরায় । একজন ব্যবস্থাপককে সংকীর্ণতা পরিহার করতে হবে।

করণীয় ও বর্জনীয়:

1.     বস ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সাথে আইন ও নৈতিক প্রয়োজনে ভিন্নমত পোষণের অবকাশ থাকলে তার সাথে অনেকটা একমত হয়ে ভিন্নমত পোষণ করার কথা সবিনয় ভদ্র ভাবে বলা।

2.     বস অফিস ত্যাগ না করা পর্যন্ত অফিসে থাকা এবং জরুরি প্রয়োজনে আবশ্যক হলে বসের অনুমতি নিয়ে অফিস ত্যাগ করা।

3.    বস ডেকে পাঠালে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি তার নিকট হাজির হওয়া। বিলম্বের অবকাশ থাকলে বসের নিকট হতে সম্মতি নেওয়া।

4.     কোন সভায় সভাপতির অনুমতি ব্যতীত কথা বলার চেষ্টা পরিহার। সভার সময় আশেপাশের লোকদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলা পরিহার করতে হবে।

5.     উচ্চস্বরে কথা বলা ও হৈচৈ করা হতে বিরত থাকা। এক সঙ্গে কয়েকজন সহকর্মী একত্রিত হলে উচ্চস্বরে কথা বলা ও হৈচৈ করা হতে বিরত থাকা।

6.    দম্ভ, ধৃষ্টতা ও অহমিকা পরিহার করা।

7.     কেহ ভুল ক্রটি করলে ঠাট্টা বা অপমানজনক মন্তব্য করা হতে বিরত থাকা।

8.     অন্যের অসম্মান করা হতে বিরত থাকা।

9.     সভায় অপ্রাসঙ্গিক কথা বার্তা ও সাইড টক করা হতে বিরত থাকা।

10.   দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী মনে করা হতে বিরত থাকা।

11.   অন্যকে কথা বলার সুযোগ দিন এবং অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

12.  তোষামোদকারীর ন্যায় আচরণ করা হতে বিরত থাকা।

13.  কথাবার্তায় আবেগতাড়িত ভাষা, রুক্ষ ব্যবহারে ও ভাঁড়ামি বর্জন করুন।

14.   হিংসা, প্রতিহিংসাপরায়ণ, সন্ত্রাসী, নেতিবাচক মনোভাব ও কথাবার্তা পরিত্যাগ করুন।

15.  কম কথা বলুন এবং ধৈর্য সহকারে অন্যের কথা শুনুন।

16.  না বলার কৌশল, আর্ট জেনে নিন।

17.  টাউট, বাটপাড়, ভণ্ড ও প্রতারক শ্রেণীর লোকদের সম্পর্কে সতর্ক থেকে তাদের প্রশ্রয় দেয়া হতে বিরত থাকুন।

18.  অফিসে বা সভায় বিলম্বে হাজির হওয়ার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। অফিসে যথাসময়ে উপস্থিত এবং কোন সভার সভাপতির হলে পূর্বাহেু উপস্থিত হয়ে যথা সময় সভার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

19.  ভদ্রতার কোন বিকল্প নাই। অন্যের সামান্যতম সাহায্য সহযোগিতা ও সৌজন্য প্রদর্শনের জবাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করুন।

20.  হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া থেকে বিরত থাকুন। উত্তেজিত হলে মানুষ অশালীন কথাবার্তা বলে যা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

21.  বস, সহকর্মী, অধস্তন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে মানবিক সম্পর্ক উন্নয়নে সচেষ্ট হওয়া।

22.  বস ও সিনিয়র কর্মকর্তা বা সহকর্মী দোষ-ক্রটি সংশোধন করতে সচেষ্ট হওয়া উচিত।

23. বস বা কর্তৃপক্ষের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করা হতে বিরত থাকা।

24.  নিজের যোগ্যতা জাহির করার জন্য অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন হতে বিরত থাকা।

25.  আত্ম প্রচার বাদ দিয়ে নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাওয়া।

26. সভা সমিতিতে অধস্তনদের উপস্থিতিতে সহকর্মীদের সম্পর্কে নেতিবাচক সমালোচনা তথা ছিদ্রান্বেষণ হতে বিরত থাকা । এহেন আচরণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভারে নিজেকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।

27.  অধস্তনদের উদ্যোগ নিরুৎসাহ করা হতে বিরত থেকে তাদের উদ্যোগকে আবশ্যক ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকে পরিচালিত করতে সহায়তা করা।

28.  অনিচ্ছাকৃত ভুলক্রটির জন্য অধস্তনদের গালমন্দ করা হতে বিরত থাকা।

29.  উগ্র মেজাজ দেখানো হতে বিরত থাকা।

30.  বাহিরের লোকের উপস্থিতিতে অফিসের কাজকর্ম ও প্ল্যান প্রোগ্রাম সম্পর্কে আলোচনা না করা।

31.  যে কোন বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা হতে বিরত থাকা।

32. কোন বিষয়কে প্রেষ্টিজ ইস্যু ও জিদ হিসাবে গণ্য করে জিদ করা হতে বিরত থাকা। প্রেষ্টিজ ইস্যু ও জিদ অনেক সময় গুরুতর সংকট সৃষ্টির দিকে এগিয়ে নেয় যার ফলে অপমান ও অপদস্থ হতে হয়।

33. দোষক্রটির জন্য অন্যকে অপমান জনক ভৎসনাকরা হতে বিরত থাকা । অধস্তনকে অপমান জনক কথা বললে তার নিকট হতে স্বতঃস্ফূর্ত এ আন্তরিক সার্ভিস পাওয়া যাবে না।

34.  শুধু নিজের সুযোগ সুবিধার দিকে লক্ষ্য ও আত্ম কেন্দ্রীয় মনোভাব পরিহার করতে হবে।

35. ছটফট, অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করতে হবে।

36. রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিকট সুযোগ সুবিধা, বদলি হওয়া বা বদলির আদেশ স্থগিত বা বাতিল করার তদবির করা হতে বিরত থাকা।

37.  নিজের আচরণ ও পোষাক পরিচ্ছেদ সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

38. সস্তায় জনপ্রিয়তা লাভের প্রবণতা পরিহার করা।

39. ভুলক্রটির জন্য কাহাকেও অভিসম্পাত করা হতে বিরত থাকা। অভিসম্পাত বুমেরাং হতে পারে।

40.  উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আমন্ত্রিত না হয়ে কোন অনুষ্ঠানে গমন করা হতে বিরত থাকা।

41.   আমি সঠিক এটা হলো আত্মবিশ্বাস। আমিই সঠিক বাকিরা ভুল এটা হলো অহংকার ।

 

সুলতানে সোলজারের মতে ব্যবস্থাপকের সাফল্যের উৎসঃ

Ø  আল্লাহকে ভয় করাঃ যিনি আন্তরিকভাবে আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস এবং ভয় করেন তিনি অন্যের উপর অবিচার ও সকল অন্যায় কাজ হতে বিরত থাকেন এবং অন্যের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ তার সকল কাজ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরকালে সকল কাজের জন্য তাঁর নিকট জবাবদিহি করতে হবে।

Ø  বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সংঙ্গে পরামর্শ করাঃ বিজ্ঞ ব্যক্তি জ্ঞান ও তথ্যে সমৃদ্ধ। তাই যিনি বিজ্ঞ লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করেন। তিনি কাজের জন্য উত্তম মানের পথ নির্দেশনা পান। ফলে তার ভুল কম হয় ।

Ø  ন্যায়পরায়ণ হওয়াঃ ন্যায়পরায়ণ সকলের উপর সুবিচার করার চেষ্টা করেন। ফলে জনগণ যন্ত্রণামুক্ত ও স্বস্তিতে থাকার সুযোগ পায়। ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা জনগণের সমর্থন ও আশীর্বাদ পান।

Ø  জ্ঞানী গুণীর সাহচর্যঃ জ্ঞানী গুনী ব্যক্তিদের সাহচর্যে থাকলে সৎ বুদ্ধি ও পরামর্শ পাওয়া যায় যা ব্যবস্থাপনায় সহায়ক। সৎ বুদ্ধি ও পরামর্শ সমস্যা মোকাবেলা করার প্রধান সহায়ক শক্তি।

Ø  সমালোচনার প্রতি সহনশীল হওয়াঃ সমালোচনার মাধ্যম নিজের ভুল ও দোষ সহজে চিহ্নিত হয়। ফলে সময়মতো তা সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া যায়। যিনি নিজের ভুল সংশোধন করে কাজ করেন তিনি বেশী সময় টিকে থাকেন।

Ø  অস্থিরতা পরিহার করাঃ অস্থিরতা চিন্তা ভাবনা করে কাজ করার পথে প্রতিবন্ধক । অস্থির হয়ে কাজ করলে কাঁদে ভুল হয়। অস্থিরতা স্থিতিশীলতার পরি পরিপন্থি। অস্থিরতা পরিত্যাগ করে ধীর স্থির ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে হবে।

 

একজন ব্যবস্থাপকের নিম্নবর্ণিত গুনাবলীও প্রয়োজন যা মৌলিক আচরণের পর্যায়ভুক্তঃ

Ø  আন্তরিকতাহীন কাজ ও বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য পরিহার করে নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করার অভ্যাস অভিপ্রায় থাকতে হবে।

Ø  অর্থহীন সমালোচনা পরিহার করে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে।

Ø  মেজাজ বিগড়ে গেলে মানুষ বিশৃংখল আচরণ করে। তাই মেজাজ ঠিক রেখে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।

Ø  অন্যের কাছে সৌজন্য ও ভদ্রতা প্রত্যাশা করলে, তা অন্যকেও প্রদর্শন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

Ø  অন্যের কাছে সৌজন্য ও ভদ্রতা প্রত্যাশা করলে, তা অন্যকেও প্রদর্শন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

Ø  কথা বলার সময় সতর্ক হতে হবে। বেফাঁস কথা বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি করে সংকট সৃষ্টিতে ইন্ধন যোগায়। তাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলতে হবে।

Ø  যে কৃতিত্ব বৈধ নয় তা দাবি করা অন্যায়। কৃতিত্ব যার প্রাপ্য তাকে দিয়ে গৌরব বোধ করা উচিত । প্রাপকের Credit দিয়ে তাকে ধন্য করতে হবে।

Ø  অযথা হৈচৈ ও গোলমাল করা ভদ্রতার পরিপন্থি।

Ø  নিজের ভুল খুঁজে বের করতে হবে এবং ভুল সংশোধন করতে আগ্রহী হতে হবে।

Ø  সর্বদা নিয়ম শৃঙ্খলা এ নিয়মানুবর্তী হতে হবে। নিয়ম-কানুনের মধ্যে শৃঙ্খলা ও কল্যাণ নিহিত।

Ø  কাজের মাধ্যমে ভাল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

Ø  আদেশ নয়, অন্যকে সবিনয় অনুরোধ করতে হবে বা পরামর্শ দিতে হবে।

Ø  ভেবে চিন্তে কাজ করতে হবে। তারাহুড়ো করে কাজ করলে পরে আক্ষেপ করতে হয়।

Ø  নিজেকে প্রশ্ন করে যাচাই করতে হবে । প্রতিপক্ষের হয়ে ভাবতে হবে তার স্থলে থাকলে নিজের কি reaction হতো।

Ø  গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার অন্যকে দিতে হবে।

Ø  কেহ ভুল ধরিয়ে দিলে তা সংশোধন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ধন্যবাদ দিতে হবে।

Ø  করদাতা জনগণের ন্যায্য স্বার্থ সংরক্ষণে যত্নবান হওয়া।

Ø  বিবেকের কাছে জবাবদিহির অঙ্গীকার থাকা।

 

আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হেনরী ফ্যয়েলের মতে যে ছয়টি মৌলিক গুণের প্রয়োজন তা হলো-

Ø  শারীরিক গুণাবলি (Physical Fitness): একজন ব্যবস্থাপকের বহুমুখী কার্য সম্পাদনের পূর্ব শর্ত শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা।

Ø  মানসিক গুণাবলি (Mental Qualities): বুদ্ধিভিত্তিক সূদুর প্রসারী দূরদর্শিতা ও কল্পনা শক্তি প্রবন ব্যবস্থাপককে দূরদর্শী হয়ে আগাম চিন্তাভাবনা এবং পরিকল্পনা করতে হয়। এজন্য প্রয়োজন হয় বুদ্ধি ভিত্তিক সুদুর প্রসারী দূরদর্শী কল্পনাশক্তি ।

Ø  নৈতিক গুণাবলি (Moral Qualities): নৈতিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষের চরিত্রে দৃঢ়তা এবং আত্ম মর্যাদা বোধ থাকে যা একজন উত্তম ব্যবস্থাপকের প্রয়োজন ।

Ø  শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গুণাবলি (Educational Qualification): শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অর্জিত জ্ঞান তাকে সার্থক করতে সহায়ক হয়।

Ø  কৌশলগত গুণাবলি (ART & Strategic Qualities): বলার কৌশল, উপস্থাপনার কৌশল, অন্যকে বশীকরণ কৌশল, কর্ম সম্পাদন কৌশল (ART/ Technique) ইত্যাদি ব্যবস্থাপনায় বেশী প্রয়োজন হয়। সুতরাং কৌশলগত গুণাবলি অর্জনে বেশী যত্নবান হতে পারে।

Ø  অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত গুণাবলীঃ যার কর্ম অভিজ্ঞতা বেশী তার পক্ষে পূর্বে সম্পাদিত ধরণের কাজ করা খুব সহজ। তাই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যবস্থাপক অভিজ্ঞতার আলোকে উত্তম পরিচালনার ও তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে কাজ আদায় করে সহজে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন। এ কারনে উচ্চ পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন স্তরের পদের কর্ম অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ॥

 

অন্যান্য গুণাবলীঃ

Ø  যোগাযোগ দক্ষতাঃ যোগাযোগ সার্থকতার উপর অধস্তনদের কাজ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নির্ভরশীল। আধুনিক যুগে যোগাযোগ কৌশল সম্পরকে যিনি যত বেশী দক্ষ তিনি তত দক্ষ ব্যবস্থাপক।

Ø  মনোরম ব্যক্তিত্ব (Pleasant Personality): ব্যক্তিত্ব মানুষের বড় হাতিয়ার। মোহনীয় বা আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্তের অধিকারী ব্যবস্থাপক সহজে অধস্তনদের বশীভূত করে কাজ আদায় করে প্রতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন।

Ø  বিচার ক্ষমতা (Power to decide & award Justice): ভাল ব্যবস্থাপক হতে হলে সূক্ষ বিচার ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। ভাল-মন্দ, কল্যান ও অকল্যাণ দ্রুত বাছাই করার ক্ষমতার মধ্যেই ব্যহস্থাপনার দক্ষতা নিহিত। সিদ্ধান্তে গ্রহন ও বিচার করার ক্ষমতা না থাকলে তিনি উচ্চতর দায়িত্ব প্রাপ্তির অযোগ্য।

Ø  সময় সচেতনতা (Time Consciousness): যিনি সময়মত কাজ করতে পারেন তিন স্বার্থক ব্যবস্থাপক। কারন সময়ের এক ফোঁর আর অসময়ের দশ ফোঁর। যিনি সময়ানুবর্তীতা মেনে চলেন, সময় মত সব কাজ করেন, তিনি সময়মত লক্ষ্যে পৌঁছে যান। সুতরাং সময় সচেতনতার উপর ব্যবস্থাপকের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে।

Ø  দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা (Quick Decision Making): বিভিন্ন পরিস্থিতি সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভরশীল। যিনি সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অপরাগ তিনি প্রশাসনিক সাফল্য আশা করতে পারেন না। উচ্চস্তরে সিদ্ধান্তহীনতা বা সিদ্ধান্তে গ্রহনে বিলম্ব হলে সরকার বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং ব্যবস্থাপককে দ্রুত সিদ্ধান্তে গ্রহনে সক্ষম হতে হবে।

Ø  গণতান্ত্রিক মনোভাবীপন্ন (Democratic mindedness): যিনি অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অন্যের মতামত গুরুত্ব সহকারে বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তিনি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা পান। ফলে সকলের সহযোগিতায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হয়। সুতরাং গণতান্ত্রিক মনোভাবসম্পন্ন ব্যবস্থাপক এ যুগে সর্বোত্তম।

Ø  প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতা (Administrative & Organizing Power): উত্তম ব্যবস্থাপককে উত্তম প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী হতে হয়।

Ø  অন্যকে মোটিভেট করার ক্ষমতা (Power of motivation): একজন ব্যবস্থাপককে অধস্তনদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেয়ার দূরদর্শীতা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আবশ্যকমত মোটিভেট করার দক্ষতার মধ্যেই ব্যবস্থাপকের কৃতিত্ব নির্ভরশীল ।

Ø  পরিস্থিতি সঙ্গে খাপ খাওয়ানো (Adjustment with situation): ব্যবস্থাপক সব সময় অনমনীয় হলে চলে না। কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি ও বাস্তব অবস্থার সঙ্গে আবশ্যক মত খাঁপ খাওয়ানোর (Adjustment) প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, খাপ খাওয়ানো অর্থ অন্যের নিকট আত্ম-সমর্পণ নয়। সুতরাং যার আবশ্যকীয় নমনীয় হওয়ার গুণ আছে তিনি ব্যবস্থাপনী এ প্রশাসনের জন্য উত্তম মানের কর্মকর্তা ।

 

ব্যবস্থাপকের বিশেষ গুণাবলি (Special Qualities required by Manager)

একজন ব্যবস্থাপক সকল দায়িত্ব একা সম্পাদন করতে পারেন না। প্রশাসন যন্ত্র সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনার জন্য প্রশাসকের যেমন উত্তম গুণাবলির অধিকারী হওয়া প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন হয় উত্তম গুণাবলি বিশিষ্টলোকদের চিহ্নিত করে তাঁদের যথাযথ দায়িত্ব দেয়া। যিনি অধিক সংখ্যক উত্তম কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সমাজকর্মী চিহ্নিত করে দায়িত্ব বণ্টন করতে সক্ষম হন তিনি নিশ্চিতভাবে সাফল্যের সংগে বেশী পরিমাণে উন্নয়ন মূলক কাজ করে, দুষ্টের দমন করে সার্থক ব্যবস্থাপক হিসাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন। নবীন অফিসারগণ চাকুরিজীবনের উষালগ্ন হতে এ বিষয় লক্ষ্য রেখে উপযুক্ত সহকর্মী ও সমাজ কর্মী বাছাই করতে যত্নবান হলে তাঁরা উত্তম ব্যবস্থাপক হিসাবে আবির্ভূত হতে পারেন। উত্তম মানুষ চিহ্নিত করার জন্য ব্যবস্থাপককে সচেতনভাবে ভাল মানুষ বাছাই করতে হয়।

 

উত্তম মানুষের ৫ টি লক্ষণ নিম্নরূপঃ

Ø  সত্য কথা বলা।

Ø  আমানত রক্ষা করা।

Ø  ওয়াদাপালন করা।

Ø  ভাল কাজে অন্যকে উদ্বুদ্ধ করা।

Ø  ভুলকরলে ভুল স্বীকার করে নিয়ে নিজেকে সংশোধন করা।

 

মোনাফেক (Hypocrate) এর ৫টি লক্ষণঃ

উত্তম লোক যেমন কাজের জন্য বাছাই করা প্রয়োজন তেমনি মোনাফেক বা হিপোক্রাটদের চিহ্নিত করাও আবশ্যক। হিপোক্রাটদের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য জানা থাকলেতাঁ দের সহজে চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলা যায়। শত্রুর চেয়ে মোনাফেক বেশি বিপদজ্জনক। মোনাফেক বন্ধুবেশে ক্ষতি করে। মোনাফেকের লক্ষণ নিম্নরূপ:

Ø  মিথ্যা বলা,

Ø  ওয়াদা ভঙ্গ করা

Ø  ক্ষণস্থায়ী বন্ধুত্ব করা

Ø  সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ করা,

Ø  ধোকা দেয়া।

মানুষের প্রকৃত সম্পদ ৪ টি।

টাকা পয়সা ও সম্পত্তি প্রকৃত সম্পদ নয়। মানুষের প্রকৃতসম্পদ যিনি দ্রুত চিহ্নিত করে কাজে ব্যবহার করতে পারেন তিনি ব্যর্থ হন না। বিজ্ঞ ব্যক্তিরা মানুষের নিম্নোক্ত চারটি বিষয়কে প্রকৃত সম্পদ হিসাবে গণ্য করেন:

Ø  স্বাস্থ্য

Ø  বিদ্যা/জ্ঞান/অভিজ্ঞতা,

Ø  ভদ্রতা ওশিষ্টাচার,

Ø  এবাদত (পূণ্যকর্ম),

 

মানুষের বড় শত্রু ষড়রিপু। যে শত্রু মানুষকে ধ্বংস করে তাঁকে চিহ্নিত করে সর্বদা সজাগ থাকা আবশ্যক। সচেতন ব্যক্তি সাফল্যের সঙ্গে শত্রুর (রিপুর) মোকাবেলা করতে পারে। মানুষকে নিম্নোক্ত ষড়রিপু ধ্বংস করে:

Ø  লোভ- লালসা,

Ø  হিংসা / প্রতিহিংসাপরায়ণতা, মরিচা যেভাবে লোহাকে ধ্বংস করে তেমনি হিংসা মানুষকে ধ্বংস করে।

Ø  অহংকার,

Ø  ক্রোধ,

Ø  নেশা, তবে ভাল কাজের নেশা সমর্থনীয়।

Ø  পরশ্রীকাতরতা।

 

 

 

আল্লাহ ৬ টি কাজ অপছন্দ করেনঃ-

আল্লাহর আশীর্বাদ ব্যতীত কেহ ব্যবস্থাপক/ প্রশাসক হতে এবং স্বার্থকভাবে বেশিক্ষণ ব্যবস্থাপক হিসাবে প্রশাসন পরিচালনা করতে পারে না। আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা হলোঃ

Ø  মিথ্যাবাদী জিহ্বা,

Ø  উদ্ধত দৃষ্টি

Ø  অত্যাচারীর হাত

Ø  যে অন্তর ষড়যন্ত্র পাকায়

Ø  যে পা অন্যায় কাজে ছুটে যায়

Ø  যে লোক পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টির কাজে ব্যস্ত থাকে।

 

সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ (Blessing of Allah):

যে ব্যবস্থাপক আল্লাহর আশীর্বাদ লাভ করেন, তিনি ধন্য এবং তাঁর ইহকাল ও পরকাল সার্থক। আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও আশীর্বাদের জন্য ব্যবস্থাপককে নিম্নোক্ত বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়ঃ

Ø  গুনাহ/পাপ, অপকর্ম ত্যাগ করে,

Ø  ইবাদত, পূণ্যকর্ম করে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বৈধ কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করাই এবাদত।

Ø  অত্যধিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে,

Ø  জনসেবা তথা সমাজ কল্যানের কাজ করে।

 

জীবনের ভারসাম্য (Balance of Life):

শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত উন্নয়ন হলে ব্যক্তির ইহকাল ও পরকালের ভারসাম্য রক্ষা পায়। একজন উত্তম ব্যবস্থাপক নিজের জীবনে ভারসাম্য রক্ষা করেন এবং ভারসাম্যপূর্ণ লোক চিহ্নিত করার সময় নিম্নোক্ত ৪ টি বিষয় লক্ষ্য রাখেনঃ

Ø  শরীর সুস্থ থাকে পরিমিত (সংযত) আহারে।

Ø  আত্মাসুস্থ থাকে পরিমিত নিদ্রায় ও বেশী পূণ্য কর্মে নিয়োজিত থাকলে।

Ø  আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয় কৃত অপরাধের জন্য অনুশোচনায়।

Ø  ন্যায় ও সত্যকে সমুন্নত রাখতে আগ্রহী ব্যক্তি জীবনের ভারসাম্য হারায় না।

 

অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপক নিম্ন-বর্নিত বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেনঃ

Ø  প্রশিক্ষণ জ্ঞান-বুদ্ধির লাগসই প্রয়োগ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

Ø  কুৎসিত মন কুৎসিত চেহারার চেয়েও জঘন্য। অর্থাৎ কুৎসিত চেহারা কুৎসিত মনের চেয়ে উত্তম।

Ø  তারাহুড়ার পরিণতি আক্ষেপ এবং ধীর স্থিরতা সাফল্যের সোপান।

Ø  যে ব্যক্তি শুধু নিজের বুদ্ধি বিবেচনাকেই নির্ভুল মনে করে সে পদে পদে হোঁচট খায়।

Ø  শত্রুকে যদি একবার ভয় কর তবে বন্ধুকে অন্তত দশ বার ভয় কর। কারণ বন্ধু যদি শত্রুতে রুপান্তরিত হয় তবে তাঁর ছোবল হতে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব ।

Ø  যে ব্যক্তি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে তাঁর জীবনে সাফল্য হাতছানি দেয়।

Ø  অলস ব্যক্তি সর্বদা পেন্ডিং কাজ করে। আর দূরদর্শী ব্যক্তি সর্বদা আগাম চিন্তা করে দৈনন্দিন কাজ দ্রুত নিষ্পত্তি করেন।

Ø  যিনি সময়মত কাজে সিরিয়াসহন তিনি ব্যর্থ হন না।

Ø  বুদ্ধিমান লোক জানেন কোন পরিস্থিতি কি বলতে হয়। কিন্তু বিজ্ঞ লোক জানেন কোন পরিস্থিতিতে কি বলা উচিত নয়।

Ø  সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়।

Ø  কর্ম ও উৎপাদনমুখী সংস্কৃতিবান ব্যক্তি জাতির সম্পদ।

প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখা ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করা। একটি প্রতিষ্ঠান কতটা দক্ষ হবে তা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নিয়োগ নীতি, প্রশিক্ষণ নীতি এবং অদক্ষ , অবাধ্য ও উশৃঙ্খল কর্মচারীদের দ্রুত অপসারণ করার নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার উপর। যে প্রতিষ্ঠানে “হায়ারিং ও ফায়ারিং” প্রক্রিয়া সহজ অর্থাৎ নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়া সহজ সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে সহজে দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উন্নয়ন করা সম্ভব। কারন সচেতন ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ কর্তৃপক্ষ অদক্ষ, অবাধ্য এ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যক্তিদের অপসারণ করে দক্ষ, যোগ্য কর্মচারী নিয়োগ করার ব্যবস্থা করতে পারেন। অন্য দিকে হায়ারিং ও ফায়ারিং যদি জটিল হয় তা হলে প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য কর্মচারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা থাকলেও এক্ষেত্রে সহজে অদক্ষ, অবাধে ও উশৃঙ্খল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অপসারণ করে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করতে পারেন না। ফলে প্রতিষ্ঠানে আবশ্যক দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা/কর্মচারীর স্থলে অদক্ষ, অবাধ্য ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তা/কর্মচারীর আখড়ায় পরিণত হয়।

নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও কর্মদক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে হয় এবং নিয়োজিতের যথাযোগ্য প্রশিক্ষণ দিয়ে চৌকস করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করা যাবে না তাদের এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মচারীদের কালক্ষেপণ না করে অপসারণ করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অযোগ্যতা, অদক্ষতার এ দুর্বলতা দূর করে গতিশীল প্রশাসন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিতে হবে।

জনগণকে সার্ভিস প্রদান করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। তাদের মৌলিক দায়িত্ব জনগণের সার্বিক কল্যাণ, তথা সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণকে হয়রানি হতে রক্ষ, ভাল ব্যবহার, বেআইনি কার্যক্রম প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা, সরকারি কার্যক্রমের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা, ইত্যাদি। নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা এবং প্রগতির পথে নৈতিকতা তথা Ethics এবং Morality প্রাধান্য দিতে হবে। তদবিরের ফলে অযোগ্য, অদক্ষ, ও অসাধু ব্যক্তিরা লাভবান হন। তদবির স্বাভাবিক কর্মপ্রবাহ, ন্যায়নীতি, ও সুবিচার ক্ষতিগ্রস্ত করে বিধায় এ কালচার সর্বস্তরে নিরুৎসাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতন থাকতে হবে।

 

জনগণের অসন্তুষ্টির কারণ (Reason for Peoples Dissatisfaction):

রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা / কর্মচারীদের উপর জনগণের অসন্তুষ্টির অনেক কারণ আছে। গতিশীল প্রশাসনের জন্য আবশ্যক মেধাবী, সৎ, সাহসী, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তবে এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যঃ

Ø  ভাল আচরণ/ ব্যবহারের অভাব,

Ø  সততার অভাবজনিত হয়রানি,

Ø  সময়মতো কাজ না করে হয়রানি করা,

Ø  জনগণের সমস্যার প্রতি অমনোযোগিতা,

Ø  ক্ষমতার অপব্যবহার জনিত হয়রানি,

Ø  অদক্ষতার কারণে কাজে বিলম্ব ও হয়রানি,

Ø  দায়িত্বহীন কাজ কর্মের মাধ্যমে হয়রানি,

Ø  টাউট/বাটপাড় ও অসাধু লোকদের প্রশ্রয় দেওয়া,

Ø  দুষ্টের দমন না করে নিরীহ মানুষকে দুষ্ট লোকের মর্জির উপর ছেড়ে দেয়া,

Ø  মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব, ইত্যাদি।

 

নৈতিকতা তথা Ethics & Morality

রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে তথা নির্বাহী দায়িত্ব নিয়োজিত ব্যক্তিদের আইন মেনে চলা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা নৈতিক দায়িত্ব।

নৈতিকতা ‘নীতি’ শব্দ হতে উদ্ভব হয়েছে। নীতি অর্থ কোন সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক নির্ধারিত আইন বা নিয়ম কানুন। কোনো কোনো নিয়ম কানুন সমাজ বা গোত্র কর্তৃক প্রবর্তিত । যারা আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী তারা নীতি বা আইন কানুন মেনে চলাকে ইহকাল ও পরকালের শান্তির পূর্ব শর্ত মনে করেন। যিনি কাজ করার সময় মনে করেন যে তার সকল কাজ এক অসীম অদৃশ্য শক্তি অবলোকন করে রেকর্ড করছেন, তিনি আইন কানুন বহির্ভূত ভাবে অন্যায় ও বেআইনি কাজ হতে স্বাভাবিকভাবে বিরত থাকেন। যেখানেই রাষ্ট্রীয় নীতি, আইন, ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধ লঙ্ঘিত হয়েছে সেখানে নৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। সততা ও আইন কানুন ও নৈতিকতা বিসর্জন দিলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বিঘ্ন হয় । কারণ সততা ও আইন/বিধি ভঙ্গ করার ফলে প্রতিষ্ঠানের বিশৃঙ্খলার ও অস্থিরতা দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ হলে নির্দেশনা ও সমন্বয় ব্যাহত হওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য এবং প্রত্যাশিত অগ্রগতির  টার্গেট অর্জিত হয় না। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ লোক সহজে অপসারণ করা যায় না। কারণ তাদের অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ নিয়োগকারীরা অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারীদের প্রশ্রয় দিয়ে রক্ষা করে।

হেনরী ফয়েল এর মতে ব্যবস্থাপকের ৬ টি আবশ্যকীয় গুণের মধ্যে অন্যতম প্রধান গুণ হলো নৈতিক গুণ। নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান সততা। ধ্যান ধারণা ও দৈনন্দিন চিন্তা চেতনা এবং কাজ কর্মে আইন ও বিধি বিধান মেনে চলার মাধ্যমে এবং সততা প্রদর্শনের মধ্যেই উন্নত মন মানসিকতার প্রতিফলন ঘটে। নৈতিক মনোবল ব্যক্তির সর্বোত্তম পুঁজি ও শক্তিশালী হাতিয়ার । এ শক্তি এবং শিক্ষার সচেতনতা ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করে, উৎসাহ যোগায় সংকট ও সমস্যা মোকাবিলা করতে। নৈতিক বল ব্যক্তিকে অনাবিল প্রশান্তি দেয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে উৎসাহ জোগায়। এ শক্তি ব্যক্তির মধ্যে শক্তি, সাহস ও আত্ম-মর্যাদাবোধ সৃষ্টি করে। শক্তি, সাহস ও আত্ম-মর্যাদাবোধ ব্যক্তি ও জাতিকে মর্যাদার আসনে বসায় । অন্যদিকে আইন ও নীতি ভঙ্গকারী এবং নৈতিক স্খলিত ব্যক্তি মানসিক ভাবে দুর্বল বিধায় দৃঢ়চিত্তে সাহসিকতার সঙ্গে সমস্যা বা অন্যায় মোকাবিলা করতে পারে না। নৈতিক স্খলনকারীর অপরাধবোধ জাগ্রত হয় না। ফলে আত্ম দ্বন্দ্বে জর্জরিত থাকায় সে সংকট ও সমস্যা মোকাবিলা করতে অসমর্থ । সংকট ও সমস্যা মোকাবিলায় করতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থাপনায় অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়ে উৎপাদন ও অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিয়ম নীতি মেনে চলা, আর্তের সেবা করা ধর্মের চিরন্তন শিক্ষা। পশু স্বভাব ও শক্তি সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। এভাবে সমাজে শুরু হয়েছে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ, নীতিহীন এবং অন্যায়ভাবে কাহাকেও অধিকার বঞ্চিত করা, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা, ইত্যাদি। এ ভাবে শোষণ ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির পশ্চাতে নীতিহীনতা ইন্ধন যুগিয়েছে। বিশৃঙ্খলার জনক শয়তান।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হতে আকীদা- বিশ্বাস সম্পর্কিত বিষয়াবলি, নৈতিকতা, নৈতিক বিধি-নির্দেশ, স্বভাব- চরিত্র, আচার-আচরণ, জীবন-যাপন প্রণালি, সামাজিক  রীতিনীতি, শরিয়তের বিধান, উপদেশ, সর্তকবানী, ভালো ও মন্দের পার্থক্য, স্বাধীন ক্ষমতা- ইখতিয়ার, আল্লাহ নির্ধারিত ন্যায়নিষ্ঠ ও ভারসাম্যপূরণ নৈতিক ও সাংস্কৃতিক নীতি (শরিয়ত), নৈতিকতা, তমদ্দুন, সমাজ রীতি ও সমাজ-সংস্কৃতির যে চিরন্তন নীতি, অর্থনৈতিক ব্যবস্খাপনা ও রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থায় নীতি-নিয়ম প্রচলন । আল্লাহর পথে ধৈর্য , সহিষ্ণুতা, অবিচলতা, সৎকর্মশীলতা, অঙ্গীকার পূর্ণ করা এবং বিপদে-অনটনে সবর করবে তাঁরাই সৎ ও সত্যাশ্রয়ী এবং তাঁরাই মুত্তাকী।

খুলুক তথা চরিত্র সম্পর্কে Oxford dictionary-তে বলা হয়েছে: Character is the particular combination of qualities in a person that makes him different from other.  It is such a quality which leads a man to be determined and able to bear difficulties. চরিত্র হচ্ছে কোন মানুষের মধ্যে এমন কতগুলো স্বতন্ত্র গুণাবলীর সমাবেশ, যা মানুষকে অন্যদের থেকে পৃথক করে। এগুলো এমন কিছু গুণ, যা মানুষকে সংকল্পবদ্ধ হতে ও কঠিন কাজ সম্পাদনে সাহায্য করে ।

হযরত হাসান বসরী (রাহ্:) বলেন, সচ্চরিত্র হল হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, দানশীলতা এবং কাউকে কষ্ট না দেওয়া। (আবু বকর আল জাযাইরী, মিনহাজুল মুসলিম: পৃ, ১১৫) ।

সচ্চরিত্র ছাড়া ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তির আশা করা যায় না । একমাত্র সৎ স্বভাব দ্বারাই সমাজে শান্তি আনয়ন করা সম্ভব। কেননা,  চরিত্রহীন লোক অন্যায়, ব্যভিচার, অত্যাচার, সংঘাত, কলহ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে । পক্ষান্তরে,  সচ্চরিত্রবান লোক নিজ চরিত্রগুণে সমাজ - চরিত্রকেও সংশোধনের চেষ্টা করে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করে । সৎ চরিত্র ও উত্তম আদর্শ ব্যক্তির জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । এ গুণে অলংকৃত ব্যক্তির জন্য রয়েছে জান্নাতে প্রথম শ্রেণীর বাড়ি প্রাপ্তির শুভ সংবাদ ।

যেহেতু এমন ব্যক্তি এক মহৎ গুণের অধিকারী, আর তা হল সৎ চরিত্র ও উত্তম আদর্শ, যা ছিল প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিশেষ গুণ । যেমন আল্লাহ্ তা'আলা এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন কারীমে এরশাদ করেনঃ

"আপনি অবশ্যই সুমহান চরিত্রের অধিকারী"। সূরা ক্বলম: ৪

৪)। আর এই সুমহান চরিত্র হল সর্ব উৎকৃষ্ট গুণ, যা মুসলমানদের জন্য জগৎবাসীর কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ও পরকালে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম উপায় ।

হযরত আবু দারদা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সাঃ) বলেছেন:

"কিয়ামতের দিন যে সব আমল ওজন করা হবে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওজনদার আমল হবে সৎ চরিত্র বা উত্তম আদর্শ । আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা ঐ ব্যক্তির উপর অসন্তুষ্ট যে অশালীন ও অসৎ চরিত্রবান"। (সুনানে তিরমিযী: ২০০২) ।

আমাদের জীবনের সকল দায়দায়িত্ব দায়িত্বশীল ও স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। শুধু যদি এই কথাটি মনে রাখি, তবে আর সবকিছুই নিয়মানুযায়ীই হবে । আঙ্গুলের ছাপের মতো প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ জীবনে স্বতন্ত্র ।

"নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট যথাযথ পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে কোনো মীমাংসা করতে আরম্ভ কর তখন মীমাংসা কর ন্যায়ভিত্তিক। দায়িত্বের পদ এবং ধর্মীয় নেতৃত্ব ও জাতীয় কর্তৃত্বের মর্যাদা ও দায়িত্বে দায়িত্ববোধ ও বিচারবোধ থাকা। বন্ধুত্ব থাক বা শত্রুতা সর্ব অবস্থায় বিচারবিভাগীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এবং যখন ফয়সালা করবে তখন ন্যায় সহকারে ফয়সালা করো।

ন্যায়পরায়ণতা বুঝাতে দায়িত্ব, কর্তব্য, জিম্মেদারী, ডিউটি, বিশ্বস্ততা ইত্যাদিকে বুঝানো হয়।

চারিত্রিক সরলতা ও সততা; চারিত্রিক অখন্ডতা, অভেদ্যতা; শুদ্ধতা; সাধুতা; সত্যশীলতা; ~. সম্পূর্ণতা; অখণ্ডতা; সমস্ততা; territoria সাধুতা; honesty. অখন্ডতা; পূরণতা; entirety. ন্যায়পরতা; uprightness. 

সরকারী যে কোন প্রকারের অর্থ -সম্পত্তি কারও আয়ত্বে এলে সে তার আমানতদার । সরকারী কোন সম্পত্তি বা সম্পদ ব্যবহার করতে পেলে তার অপব্যবহার বা সরকারী পদ পেলে ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি ইসলামে হারাম। সরকারী মাল বলে তাতে অপচয় ঘটায়, প্রয়োজনের অধিক ব্যয় করে, লোকসান করে কাজে লাগায়, অযত্ন করে ব্যবহার করে।

কারেন্ট, পানি, গ্যাস ফ্রি বা মিনিমাম চার্জ হলে অতিরিক্ত ব্যয় করে। দিনে-রাতে বাতি জ্বালিয়ে রাখে। রুমে কেউ না থাকলেও এসি চলতে থাকে। সরকারী ফোন বলে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে। সরকারী ঔষধ পেলে বেআইনীভাবে গরীব-সেবা করে, বন্ধু-বান্ধবদেরকে দেয়।

সরকারী যানবাহন বলে চালাতে যত্ন নেয় না ও স্বেচ্ছাচারিভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যা integrity পরিপন্থী বা আমানতের খিয়ানত করা হয়।

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠে। বিভিন্ন পর্যায়ের পদস্থ ব্যক্তির তদবিরের ফলে নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন। তদবির এমন পর্যায়ের থেকে আসে বা করে থাকে, বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রার্থীকে পরীক্ষায় টেকানো বা ভাইভায় নম্বর দেওয়ার মতো তদবিরও আসে। রোল নম্বর দিয়ে বলেন, সে আমার আত্মীয়। তাকে দেখবেন। ডিও লেটার দিয়ে বা প্রার্থীর দরখাস্তে সুপারিশ করার পাশাপাশি ফোন দিয়েও তদবির করা হয়। এতে বিব্রত হতে হয়, নৈতিকতার প্রশ্নে আর কি কিছু করা যায়।

ধার্মিক লোক সহজ, সরল ও দুঃশ্চিন্তাহীন জীবনযাপন করেন। অন্যদিকে নীতি বিবর্জিত অসাধু লোক ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নীতিহীন পন্থায় শোষণের মাধ্যমে সম্পদ আহরণ করছে। তবে তারা সম্পদের মাধ্যমে শান্তি বা স্বস্তি পায় না। রাজনৈতিক ও নির্বাহী পর্যায়ের উভয় স্তরেই নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অত্যাবশ্যক। ইহকাল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট এবং পরকালে সৃষ্টিকর্তার নিকট নিজের সকল কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি  করার অকৃত্রিম ও আন্তরিক বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে উঁচু মানের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে পারে। ইহকাল ও পরকালে জবাবদিহি করার নীতিতে আন্তরিকভাবে বিশ্বাসী উত্তম ব্যক্তির নিকট সকলের ধন সম্পদ ও মান ইজ্জত নিরাপদ। নৈতিকতা সকল মানুষের আবহমান কালের প্রত্যাশা ।

রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক, অথবা জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত, বিঘ্নিত, প্রভাবিত অথবা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে এমন ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে সকল প্রাতিষ্ঠানিক এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কার্যকলাপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাসময়, সঠিকভাবে, সৎ উদ্দেশ্যে অবহিত রাখার সচেতন ও আন্তরিক প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বলা যায়। প্রজ্ঞা, সততা, ও সদিচ্ছা, স্বচ্ছতার পূর্ব শর্ত । অসাধুতা ও অসদুদ্দেশ্যে যে কাজ করা হয় তা জনগণকে অবহিত না করার প্রবণতা স্বাভাবিক। সুতরাং অসাধুতা ও অদক্ষতা স্বচ্ছতার পথে প্রতিবন্ধক।

 

 

প্রশাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত নিম্নরূপঃ

Ø  স্বাধীন সংবাদপত্রঃ স্বাধীন সংবাদপত্র সততার সহিত সঠিক ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে।

Ø  রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দক্ষতা, সততা ও সেবামুখী ভূমিকাঃ সংবিধান ও আইন/বিধি মোতাবেক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।

Ø  রেডিও ও টেলিভিশনঃ রেডিও এবং টেলিভিশন দ্রুত সঠিক সংবাদ পরিবেশন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে । রিপোর্ট, সাক্ষাৎকার, প্রশ্নোত্তর, ইত্যাদির মাধ্যমে এ শক্তিশালী গণমাধ্যম জনগণের অধিকার ও স্বার্থ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Ø  সভা ও সেমিনার।

Ø  পাবলিক একাউন্টস কমিটিঃ এ জবাবদিহিতার মাধ্যমে সংসদ তথা জনপ্রতিনিধিরা সরকারি অর্থ ব্যয়ের যথার্থতা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ পায় ।

Ø  প্রভিলেজ কমিটি / ষ্ট্যান্ডিং কমিটি

Ø  স্থিতিশীলতা ও শান্তি

স্বচ্ছতার পথে প্রতিবন্ধকগুলো নিম্নরুপঃ

Ø  ঔপনিবেশিক ও স্বৈরাচারিক ঐতিহ্য

Ø  নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতা

Ø  কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা

Ø  অস্থিরতা ও স্থিতিহীনতা

Ø  যুদ্ধ ও বিপ্লব

চূড়ান্ত বিশ্লেষণে বলা যায় যে, স্বচ্ছতা কর্তৃপক্ষের অঙ্গীকার ও সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। দক্ষ ব্যবস্থাপন, সত্যনিষ্ঠ, ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও আন্তরিক হলে স্বচ্ছ হতে আগ্রহী হয়।

জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতাঃ

সুশিক্ষা ও জবাবদিহি করার সদিচ্ছা থাকলে মানুষ অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজ হতে বিরত থাকতে আগ্রহী হয়। আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক মানুষের জবাবদিহিতার উত্তম স্থান। বিবেকে প্রশ্ন করলে সব সত্য মিথ্যার উত্তর পাওয়া যাবে।

সরকারি অর্থ নিজ অর্থের মত করে মিতব্যয়ী হয়ে ব্যয় করতে হয়। সরকারি অর্থ সরকারি স্বার্থ ব্যতীত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নিজের স্বার্থে বা অন্য কারও স্বার্থে ব্যয় করা যাবে না।

বিভিন্ন প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বা উদ্বোধনের সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কমিটি গঠন করে, বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও ঐ সকল অনুষ্ঠানকে সরকারি অনুষ্ঠানে পরিণত করে সকল গণ্যমান্য ব্যক্তি, আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ করে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে রাজনৈতিক জনসভার পরিণত করা হয় যা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর আওতায় প্রজেক্টের ব্যয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বিধায় জনগণের ঋণের বোঝা ও প্রজেক্ট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এমআরটি লাইন-১ এর চুক্তি ও উদ্বোধনের ক্ষেত্রে এরকম কোনো ব্যয় নির্বাহ করা হয়নি।

সংবিধানের মৌলিক অধিকার (পার্ট-৩) এর অনুচ্ছেদ ২৯-এ: “সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা,” ৩২-এ: “আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবেনা” এবং অনুচ্ছেদ ৪০-এ “পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা: আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে কোন পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোন যোগ্যতা নির্ধারিত হইয়া থাকিলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসায় পরিচালনার অধিকার থাকিবে।” এফআর বিধি-৫ এ “সরকার এই বিধির ক্ষমতাবলে পরবর্তীতে বিধি এবং আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সুবিচারের ভিত্তিতে শিথিলতা প্রদর্শনপূর্বক তাহার আদেশ প্রদানের সীমাবদ্ধতার আওতায় তাহা করিবেন।” ডিএমটিসিএল এবং এর আওতায় প্রকল্পসমূহের সরাসরি নিয়োগের অঙ্গীকারনামার আর্থিক অংশের সাথে সাংঘর্ষিক মর্মে প্রতীয়মান হয় । নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সংবিধানের পরিপন্থি কোনো ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা আইনসম্মত নয়।

জালিয়াতি অথবা অবহেলার কারণে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

আইন ও নৈতিক প্রয়োজনে ভিন্নমত পোষণের অবকাশ থাকলে তার সাথে অনেকটা একমত হয়ে ভিন্নমত পোষণ করার কথা সবিনয় ভদ্রভাবে বলা।

 

আমলা-কর্মকর্তা (Bureaucrat – Officers): আরবি আমল শব্দ হতে আমিল, আমেলা এবং আমলা শব্দের উদ্ভব হয়েছে। আমল অর্থ আদেশ পালন বা বাস্তবায়ন করা। মুঘল শাসন আমলে সরকারি কর্মকর্তাদের আমিল বলা হতো। পাকিস্তান আমলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আমলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আসলে সকল শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা / কর্মচারীই আমলা। রাষ্ট্রের কর্মকর্তাগণ রাষ্ট্রপরিচালকের আদেশ আমল বা বাস্তবায়ন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় যে স্তরের কর্মকর্তাগণ আদেশ গ্রহণ করেন ও আদেশ দেন এবং সরকারের আদেশ আমল বা বাস্তবায়ন করেন তাদের আমলা বা কর্মকর্তা বলে।

জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে পার্থক্য করাটা অন্তত দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সামাজিক প্রগতিতে দায়িত্ববোধ একটা বিরাট শক্তি হিসেবে কাজ করে। জবাবদিহি লোকদের দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নিতে পারে, যেটা অন্যরা তাঁদের দিয়ে করাতে চাইছেন এবং এটা ততখানিই করিয়ে নেওয়া যায়, যতটা নজরদারির মধ্য দিয়ে করানো সম্ভব।

অন্য একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। গাজাতে যে অগণন ডাক্তার, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মী আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করা, বিভিন্ন ঘটনা খবরে তুলে আনা এবং ক্ষুধার্তদের খাবার জোগানোর কাজে লেগে আছেন, তাঁরা তো জবাবদিহির দায়ে এসব কাজ করছেন না! অনবরত মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি চলছে, কখনো কখনো তাঁদের ওপরও বোমা পড়ছে। এরই মধ্যে তাঁরা যে কাজ করে চলেছেন, সেটা তাঁরা করছেন গাজার মানুষের প্রতি তাঁদের দায়িত্বশীলতা অথবা নিজস্ব পেশাগত নৈতিকতা থেকে।

জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে পার্থক্য করাটা অন্তত দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সামাজিক প্রগতিতে দায়িত্ববোধ একটা বিরাট শক্তি হিসেবে কাজ করে। জবাবদিহি লোকদের দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নিতে পারে, যেটা অন্যরা তাঁদের দিয়ে করাতে চাইছেন এবং এটা ততখানিই করিয়ে নেওয়া যায়, যতটা নজরদারির মধ্য দিয়ে করানো সম্ভব।

অন্যদিকে দায়িত্ববোধ হলো সেটাই, যা লোকেরা জনস্বার্থের কথা ভেবে নিজেদের ভেতর থেকে আসা তাগিদে করতে চান। এই আন্তরিক তাগিদ, উদ্যোগ ও সৃষ্টিশীলতাকে বিপুল রসদ জোগায়, যেটা জবাবদিহির আওতায় পড়ে না। বস্তুত গোটা বিশ্বে যেসব প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে সচল, সেগুলোর পেছনে একটা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি। এটা শুধু স্কুলের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, সংগ্রহশালা, আদালত থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেই তা দেখা যায়।

দ্বিতীয়ত, জবাবদিহি ও দায়িত্ব পালনের জন্য কী উপায় নেওয়া হচ্ছে, এর ভিত্তিতেও এই দুটির মধ্যে প্রভেদ দেখা দেয়। যেমন যেখানে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে সবাই ঠিক সময়ে দপ্তরে হাজিরা দেবে, সেখানে কারও পক্ষে সময়ানুবর্তিতার অভ্যাস গড়ে তোলাটা সহজ হয়ে ওঠে। এখানে জবাবদিহি ও দায়িত্ববোধ একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু এ দুটি আবার একেবারে বিপরীত দিশায় কাজ করতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, কাজের জায়গার পরিবেশটা যদি পদানুসারী হয়, সেখানে জবাবদিহি কাজ করতেই পারে। কিন্তু নীচু পদে কাজ করা লোকেরা তাগিদ হারিয়ে ফেলতে পারেন। ফলে দায়িত্বশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। তেমনি কেন্দ্রীকরণ থেকে জবাবদিহি বাড়তে পারে, কিন্তু দায়িত্বশীলতা বাড়ে বিকেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে। দুটির মধ্যে পরিপূরকতা থাকলেও, এ দুটির পরিসর কিন্তু একেবারে আলাদা।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি, দায়িত্বের মধ্যে প্রায়ই একটা সহযোগিতার দিক থাকে। নীতিনিষ্ঠ কোনো লোক অবশ্যই সব সময় দায়িত্ববানের মতোই কাজ করে যাবেন, তা অন্যরা যা-ই করুন না কেন। যেমন অন্যেরা ট্র্যাফিক সিগন্যাল না মেনে রাস্তা পার হলেও তিনি কিন্তু সিগন্যাল সবুজ হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবেন। কিন্তু বেশির ভাগ লোকের পক্ষেই দায়িত্বশীল আচরণ করাটা তখন সহজ হয়, যখন দেখেন অন্যরাও সেটা করছেন।

এই মৌলিক পর্যবেক্ষণের একাধিক সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য আছে। তার একটা হচ্ছে এই যে দায়িত্ববোধহীনতা প্রায়ই আমাদের এমন একটা ‘সামাজিক ফাঁদ’-এর মধ্যে ফেলে দেয়, যেখানে লোকেরা একটা দায়িত্বশীল পরিবেশের মধ্যে থাকতে চেয়েও অন্যদের দায়িত্বহীনতার অনুকরণ করেন। ভারতে বহু স্কুলই এ রকম একটা ফাঁদে পড়েছে বলে মনে হয়।

মুদ্রাটির একটি অন্য পিঠ আছে—সাময়িক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই ফাঁদ এড়ানোর মধ্য দিয়ে আমরা অনেক কিছু পেতে পারি। এখানে একটা স্বতঃসিদ্ধ স্থায়িত্বের ব্যাপারও আছে, যেখানে বিভিন্ন লোকের দায়িত্বশীল আচরণ অন্যদের দায়িত্বশীলতা বাড়িয়ে তোলে। সামাজিক বিধি নিয়ে লেখাপত্রের মধ্যে এ রকম ‘বহুবিধ সমস্থিতি’র উদাহরণ পাওয়া যায়।

আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে নির্বাচনী গণতন্ত্রের পুরো ইমারতটাই দাঁড়িয়ে আছে একটা সাধারণ সহযোগিতামূলক দায়িত্ব পালনের ওপর। সেটা হলো ভোটদান। সব ভোটারই জানেন, তাঁর ভোট এককভাবে কোনো বদল আনতে পারবে না। তা সত্ত্বেও বহু লোকে—প্রায়ই ব্যাপক সংখ্যাগুরু অংশ—অনেক সময়ই অনেকটা পথ হেঁটে যাওয়া বা দীর্ঘক্ষণ কাতারে দাঁড়িয়ে থাকার মতো সমস্যার মধ্যেও ভোট দিয়ে থাকেন। ভোট দেওয়ার পেছনে নানা উদ্দেশ্য কাজ করতে পারে, কিন্তু অনেক লোকেই স্রেফ মনে করেন যে ভোট দেওয়াটা হচ্ছে দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য।

একটি সুস্থ সামাজিক জীবনের জন্য দায়িত্বশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে চিন্তানুশীলকেরা বহু যুগ ধরে আলোচনা করে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন বেশ কিছু অর্থশাস্ত্রীও। দ্য থিওরি অব মরাল সেন্টিমেন্টস বইতে অ্যাডাম স্মিথ জোর দিয়ে বলছেন, ‘আমরা যা যা করে থাকি, তা কেবল আমাদের নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই করি না; অন্যরা আমাদের কাজকর্ম কোন চোখে দেখছে, সেই আত্মসমীক্ষণ থেকে উঠে আসা “আচরণের সাধারণ নিয়মাবলির” দ্বারাও আমাদের সেই কাজগুলো প্রভাবিত হয়ে থাকে।’

আলফ্রেড মার্শালকে নব্য ধ্রুপদী অর্থশাস্ত্রের জনক বলা হয়ে থাকে। তাঁর অসামান্য গ্রন্থ প্রিন্সিপলস অব ইকোনমিকস-এ তিনি ‘অ-স্বার্থপর আচরণ’-এর শক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এমনকি তিনি লিখেছেন, ‘অর্থশাস্ত্রীর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো কীভাবে লীন হয়ে থাকা এই সামাজিক সম্পদকে বিকশিত করা যায়, তা আবিষ্কার করা।’

ড. বি আর আম্বেদকরের বিবেচনায়, ‘ভ্রাতৃত্ব’ ব্যতিরেকে স্বাধিকার ও সাম্য ‘কোনো স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে’ আসে না। ভ্রাতৃত্ব হচ্ছে দায়িত্বশীলতার এমন এক শক্তিশালী রূপ, যা ‘ব্যক্তিবিশেষকে অন্যদের শুভময়তার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে’ শেখায়।

বোর্ড মিসিলিনীয়াস রুলস, ১৯৩৪ এর বিধি অনুযায়ী-

(১) অধস্তন কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আছে। অর্থাৎ অধস্তন কর্মকর্তাগণ যে দায়িত্ব পালন করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তা পালন করতে পারেন। তবে কোন আইনে যদি অধস্তন কর্মকর্তা/কর্তৃপক্ষকে কোন বিষয় চূড়ান্ত ভাবে ক্ষমতা অর্পিত হয়ে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে উক্ত নিয়ম প্রযোজ্য নয়। (বিধি-৩) ।

(২) যদি অধস্তন কর্তৃপক্ষ তার নিকটবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আদেশ সম্পর্কে অসন্তুষ্ট হন তাহলে অধস্তন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি উভয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিবেচনার জন্য প্রেরণ করার অনুরোধ করতে পারেন (রুলস-৪) ।

(৩) যে সমস্ত বিষয় একজন অফিসার নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিষ্পত্তি করতে কর্তৃত্ব প্রাপ্ত তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করা যাবে না। (বিধি-৫) ।

(১৮) যে সমস্ত কর্মকর্তাদের উপর সরকারি অর্থের দায় দায়িত্ব থাকে তাদের সরকারি অর্থের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত দায় দায়িত্ব আছে। (রুল-৪১) ।

 

 

 

 

 

 

 

 

INTEGRITY: -

“The only thing that has integrity is the truth……

Integrity is more than the truth; it is integration of the truth, a very comprehensive truth”.

-Buckminster Fuller.

 

Integrity is not a question of morals but Inclusiveness. It means doing what you think is best for everyone concerned. Integrity and Loyalty are virtues of a good decent trustworthy person.

A person’s true character is revealed by what he does Behind the people Who trusted him.

INTEGRITY & LOYALITY ARE VIRTUES OF A GOOD TRUSTWORTHY PERSON.

When you have high standards and demand integrity, it should set the tone for others. But not all will be able to conform to standards they should. It’s not in their DNA.  It just isn’t. Embarking on a journey that transforms, changes the status quo for the better and expects others to act accordingly, isn’t always a quick or calm path.   And it usually is very challenging.

Reflecting on Women’s History Month, and thinking about all the women who have come before me, and those who sit alongside me.  Women who have faced adversity. In the workplace and in life.  Those who have been silenced for calling people out on their bad acts.  I’m honoring and thinking about you today. Your courage.  Your resilience.

And I’m not finished.  Honoring the men who have stood up to the people who have tried to squash progress or honesty too. Who have stood by women who have done what is right. It isn’t easy.  You are heroes.

To all who have pushed against the tide, who have demanded more from the world and themselves, thank you. 

Keep going.  Keep doing.

1.The quality of being honest and having strong moral (আত্মবিশ্বাস, মনোবল, নৈতিকতা, ন্যায়পরায়ণতা, নীতিগতভাবে, নৈতিকভাবে, ন্যায়তঃ) principles: Personal/ Professional / artistic integrity- to behave with integrity.

2. (Formal) the state of being whole and not divided Unity; to respect the territorial integrity of the nation.

3. A man of integrity is polite, pious, and punctual by nature and tries to please people by performance. He behaves and protests politely. He is sincere & serious to serve people. He requires to be submissive to the authority of Allah.

He must have service oriented in his thoughts and action. He requires self-awareness and as well as awareness about his Environment. He must have ability of adjustability and adaptability.

He requires habit of learning and listening to others. He must love fairness. He must have spontaneous strong desire to serve and please people through service. He spends Public Money as if it is his own money.

He must love fairness. He must have spontaneous strong desire to serve and please people through service. He spends Public Money as if it is his own money.

 

Ethics, Morality and Integrity for A Good Public Servant / Good professional Engineer / Procuring Entity / Project Director /Public Representative:

A Good Public Servant / Good Professional Engineer / Procuring Entity / Project Director / Public Representative must be of Inflexible Integrity, Ethics and Morality, Sober, Truthful, Accurate, Resolute, Discreet of Cool and Sound Judgement, must have command of his Temper, must have Courage to resist and repel attempts at Intimidation, a firmness that is proof against Solicitation, Flattery or Improper bias of any kind, must take an interest in his work, must be fair and impartial as a judge on the bench, must have experience in his work and in dealing with men, restraining from illegal activities,  which implies some maturity of years, must have business habits and knowledge of accounts.

Manage mind, body, soul and maintain balance of life and soul & orderly mind and behaviour. Restraining from illegal activities, rendering services to humanity, abide by rules, legal and logical activities. Morality has close relation with idealism and impartiality. Truthfulness, Trustworthiness and transparency are ingredients of morality. Yearning (Strong desire) to uphold the cause of truth has relevance with morality.

Men who combine these qualities are not be picked up everyday, still they can be found.

1. Honesty and Goodness.

2. Wholeness; Unity.

3. Motivation & Morale.

 

Integrity @ Honesty. If you have both of that other thing come easily. Integrity is never divided into partial. So, I have met Several honest Person but never ever seen or meet a Person who has entirety or integrity.

“The Person who have Integrity 100%, he requires integrity character. He must interact & impress others. He requires intelligence to understand situation and changing need & circumstances & that Person maintains neutrality while hearing disputes/conflicts, He must be neat & clean both in action & thought. He requires nurturing habits and he must be of inflexible (অনমনীয়তা, অপরিবর্তনীয়) Integrity, Moral/Ethics (নৈতিক), Moral Character (চরিত্র), Reliable, Responsive, Responsible, Resourcefulness; Sober (অপ্রমত্ত , মাতাল হয় নাই এমন, সংযমী, মিতাচারী, মিতপায়ী, সংযত, গম্ভীর, প্রশান্ত ,অচঞ্চল), truthful (সত্যবাদী, সত্যনিষ্ঠ) He is to be truthful, trustworthy, tolerant, tactful and know techniques of controlling. He requires to be transparent to the society), Clean Character, Cheerful, Challenge, Commitment, accurate (যথাযথ, সঠিক, নিখুঁত, যথাযথতা,  সঠিকতর, খুঁতশূন্যতা, নির্ভুলতা), resolute (স্থির সংকল্প, স্থির নিশ্চিত, অটল, স্থিরসিদ্ধান্ত, বিভাজন) discreet (সুবিবেচনাপূর্ণ,  সতর্ক, বিচক্ষণ, বিবেচনা, স্ববিবেক), of cool and sound judgement ( His prime concern is equity and justice.), must have command of his temper (মেজাজ), must have courage to resist and repel attempts at intimidation (ভয় দেখানো, ভীতি প্রদর্শন, উৎএাসন, (উৎএাসিত করা) a firmness (দৃঢ়তা) that is proof against solicitation (প্রার্থনা), a flattery (তোষামোদ) or improper (অনুচিত, অশোভন) bias of any kind,, must take an interest in his work, (He is resourceful with knowledge & experience), must be fair and an impartial (নিরপেক্ষ, পক্ষপাতশূন্য , নিরপেক্ষতা)  as a judge on the bench, must have experience in his work and dealing with men, which implies some maturity of years, must have business habits and Knowledge of accounts. Men who combine these qualities are not picked up everyday. Still they can be found. But they are greatly in demand, and when found, they are worth their Price; rather they are beyond price, and their value cannot be estimated by dollars.”

পটার স্টুয়ার্ট, মার্কিন বিচারপতি (১৯১৫-১৯৮৫) মতে, নৈতিকতা হলো আপনার কী করার এবং কী করতে পারার অধিকার আছে, তার পার্থক্য জানা ।

#Lead_Yourself

Many of us want to be good leaders, don't we? We want to give leads to a lot of people. We want many people to follow us as their leaders, love, respect us, and so on, don’t we? This desire is not bad at all. There is a special need for leadership in this society. But do you have that leadership skill in you? How do you understand?

Ø  Are you able to give yourself the lead properly?

Ø  Do you have enough control over your daily discipline and ethics?

Ø  Are you able to manage your personal emotions properly? (Anger, sadness, anger, etc.)

Ø  Does the other's improvisation instill quite a lot of positive joy and pride in you?

If the answer to the above 4 questions is quite confidently positive, you can try to emerge as a leader. You know less than what you think about yourself. It's your ignorance. Nobody cares about you.

Definition of Scientific Management of F.W Taylor is-

“Science not rule of thumb, Harmony not discord, Co-operation not Individualism, Maximum output in place of Minimum output, The development of each man to his greatest efficiency & Prosperity”

To achieve the Targets/ Goals of Development Project/Organization, it is always utmost importance to place “Right Person/People at the Right Place at the Right Time”.

 

Everybody must uphold their own dignity when they are on the chair.

Entropy of this Universe goes towards maximum but Pendulum always remains equilibrium.

 

 

 

 

Md. Abul Kashem Bhuiyan)

Project Director

Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-1)

Tel: 02-41025960

Email: pdmrt1@dmtcl.gov.bd

 

মতামত থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম