বাংলাদেশের মোট ভোটারের একটি বড় অংশ তরুণ। নতুন ভোটার, কর্মজীবনে প্রবেশরত যুবসমাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই তরুণরা আদৌ ভোট দিতে আগ্রহী কি না, কিংবা তারা দেশের রাজনীতি সম্পর্কে কী ভাবছে?
গত এক দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ধারা তৈরি হয়েছে, তাতে তরুণদের বড় একটি অংশ রাজনীতিকে দেখছে অনাস্থা ও হতাশার চোখে। অনেক তরুণের কাছে নির্বাচন এখন আর ‘পরিবর্তনের হাতিয়ার’ নয়, বরং এটি একটি পূর্বনির্ধারিত প্রক্রিয়া বলে মনে হয়।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, বড় একটি অংশ ভোট দেওয়াকে অর্থহীন মনে করছে। তাদের যুক্তি প্রায় একই “ভোট দিয়ে কী হবে, ফল তো আগেই ঠিক।”
এই মনোভাবের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে ক্ষমতার পালাবদল কম, রাজনৈতিক সহনশীলতা দুর্বল এবং ভিন্নমতের জায়গা সংকুচিত।
রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বনাম দূরত্ব
তরুণদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব। ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা এক্সে (টুইটার) তারা রাজনীতি নিয়ে কথা বলে, সমালোচনা করে, ব্যঙ্গ করে। কিন্তু এই ডিজিটাল সক্রিয়তা বাস্তব রাজনীতিতে অংশগ্রহণে রূপ নিচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণরা রাজনীতিতে আগ্রহ হারায়নি; বরং প্রচলিত দলীয় রাজনীতির কাঠামো তাদের আকর্ষণ করতে পারছে না। ছাত্ররাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও দলীয় লেজুড়বৃত্তির প্রতীকে পরিণত হওয়ায় তরুণদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি: প্রধান উদ্বেগ
তরুণদের রাজনীতি ভাবনায় সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে কর্মসংস্থান সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। অনেক তরুণ মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের সময় বড় বড় কথা বললেও ক্ষমতায় গেলে তরুণদের বাস্তব সমস্যাগুলো আর গুরুত্ব পায় না।
একজন সদ্য স্নাতক তরুণ বলেন, “আমাদের জন্য রাজনীতি মানে এখন বিসিএস, বিদেশ যাওয়া আর টিকে থাকার লড়াই। রাষ্ট্র আমাদের জন্য কী করছে, সেটা স্পষ্ট না।”
পরিবর্তনের সম্ভাবনা কি আছে?
সব হতাশার মধ্যেও আশার জায়গা পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি। নতুন ভোটারদের একটি অংশ এখনো চায় স্বচ্ছ নির্বাচন, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে চায় স্পষ্ট নীতি, তরুণবান্ধব কর্মসূচি এবং নতুন নেতৃত্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের কেবল ভোটব্যাংক হিসেবে না দেখে, বরং নীতিনির্ধারণে যুক্ত করে, তাহলে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আবারও বাড়তে পারে।
তারুণ্যের ভোট–ভাবনা আসলে দেশের রাজনীতির আয়না। তরুণরা মুখ ফিরিয়ে নিলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়, আর তারা সম্পৃক্ত হলে রাজনীতি পায় নতুন প্রাণ। প্রশ্ন একটাই! রাজনীতি কি তরুণদের বিশ্বাস ফেরাতে পারবে, নাকি এই প্রজন্ম ধীরে ধীরে ভোটের রাজনীতি থেকেই সরে যাবে?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
