কণ্ঠশিল্পী পুতুলের ফেনী শহরের উকিলপাড়ার বাড়ির দোতলা পর্যন্ত বন্যার পানি উঠেছিল। সেই বাড়িতে পুতুলের ভাই তার পরিবার নিয়ে থাকেন। পাশে বড় বোনও থাকেন। পুতুল জানিয়েছিলেন ফেনীতে থাকা ভাই ও বোনের পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। গত শুক্রবার দুপুরে এমন কথা জানানোর পর রোববার (২৫ আগস্ট) বেলা তিনটার পর পুতুল জানালেন, ভাই ও বোনের খোঁজ পেয়েছেন। তবে এখনো তাদের সঙ্গে কথা হয়নি। এদিকে চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছেন পুতুলের মা-বাবা।
জানা গেছে, বাড়ির পাশের আরেকটি তিনতলা বাড়িতে তারা আশ্রয় নিয়েছেন। একজন সেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে বোনের খবর জানতে পেরেছেন। পুতুল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার বোনের পরিবারের খোঁজ পেয়েছি। ঠিকঠাক আছে জেনেছি। খাবার, পানির সংকটে আছে, যা হোক, বেঁচে আছে এটাই বড় কথা...।’
ফেসবুক পোস্টে পুতুল আরও লিখেছেন, ‘যারা খোঁজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন গত কয়েক দিন, ফোনে বা মেসেজে প্রতিনিয়ত জানতে চেয়েছেন আপডেট, আপনাদের সবার প্রতি ঋণী রইলাম। যারা আমার পোস্টগুলো শেয়ার করে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন তাদের প্রতি ভালোবাসা। যারা দূর থেকে প্রার্থনা করেছেন কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতিও। বাংলাদেশ এই সংকট কাটিয়ে উঠুক, বন্যার্ত মানুষগুলোর প্রতি সবাই সহমর্মী হই। কী অবর্ণনীয় কষ্টে তারা আছেন, তা ডাঙায় থাকা মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব।’
পুতুল বলেন,‘সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কয়েকজনকে ঠিকানা দিয়েছিলাম, চেষ্টা করছেন, কিন্তু কী হচ্ছিল, কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। আসলে ওই এলাকার প্রকৃতচিত্র কী, সেটাও বুঝতে পারছি না। শহর থেকে একটু দূরে তো। ফেসবুকে কয়েকটা ভিডিওতে দেখলাম, ওখানে প্রচুর পানি। তবে ভিডিওগুলো কবেকার তা বুঝতে পারছি না। গতকাল শনিবার সারা দিন ফেনীতে বৃষ্টি হয়নি। শহর থেকে নামছে। এই কয় দিন আম্মা-আব্বাকে মানিয়ে রাখা গেছে। এখন তারা অস্থির হয়ে পড়েছেন।’
পুতুলের মা-বাবার বাড়ি ফেনী শহরের উকিলপাড়ায়। এই বাড়ি থেকে তার বোনের বাড়ির দূরত্ব ৩৫ মিনিটের।
পুতুল আরও বলেন, ‘প্রথম দিকে খুব একটা চিন্তা হচ্ছিল না। ভাবছি, বন্যার পানি নেমে যাবে, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এই কয় দিন কোনো খবর না পাওয়ায় চিন্তা বেড়ে যায়। বাচ্চারা যেহেতু ছোট, খাওয়াদাওয়া পাচ্ছে কি না, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। বাড়িঘরের তো কিছুই নাই, ওদিকে দোকানপাট যা-ও ছিল, সবই তো শেষ। একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। আমার বোনদের পাকা বাড়ি। কাউকে বলতে শুনেছি, ২০ ফুট আবার কেউ বলেছে ১৮ ফুটের মতো পানি উঠেছে। ও রকম অবস্থা হলে তো পুরা বাড়ি পানির নিচে। আমি আজকে একটা ভিডিও দেখলাম, আমাদের শহরের বাড়ির। ওখানে আড়াইতলা পর্যন্ত পানি, তিনতলার ছাদ থেকে দেখা যাচ্ছে। তাহলে গ্রামের দিকের বাড়ির অবস্থা যে কী, ভাবতেই অস্থির লাগে।’
ফেনী শহরের বেড়ে ওঠা পুতুলের। ২০০৬ সালে গানের রিয়েলিটি শো ‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পেশাদার গানের জগতে যাত্রা শুরু তার। দেড় যুগ ধরে স্থায়ীভাবে ঢাকাতে থাকছেন এই গায়িকা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
