ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

নারী সমন্বয়কের পরামর্শে জাতির কাছে জয়ের ক্ষমা প্রার্থনা

বিনোদন | বিনোদন ডেস্ক

(২ বছর আগে) ২৯ আগস্ট ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৭:২৮ অপরাহ্ন

banglahour

২০১৫ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৫০ জনকে আসামি করে সম্প্রতি মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা-নির্মাতা-উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। হামলার ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল। ওই সময়টাতে মানে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে জয় দেশেই ছিলেন না, ছিলেন নেপালে!

বুধবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন অভিনেতা। তিনি জানান, তার কাছে এ বিষয়ে সব তথ্য রয়েছে। চাইলে তিনি সেটা জনগণের আদালতেও পেশ করতে পারবেন।

ভিডিও বার্তায় এ বিষয়ে জয় বলেন, ‘আমার নামে মামলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যাচেষ্টার মামলা। যেখানে আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি মামলার এজাহার পড়েছি, যেখানে লেখা আছে- ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় অনেকের সঙ্গে আমিও ছিলাম। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা করেছি, তাকে হত্যার চেষ্টা করেছি।’

আত্মপক্ষ সমর্থন করে জয় বলেন, ‘আমার কাছে সব প্রমাণ আছে, মামলায় উল্লেখিত ১৫ এপ্রিল আমি শুটিংয়ের কাজে নেপালে ছিলাম। আমার পাসপোর্টেও বিষয়টি উল্লেখ আছে। সেদিন সকাল ১১টার ফ্লাইটে নেপালে যাই। সেসময় নেপালে একটি বড় ভূমিকম্প হয়। যে ভূমিকম্পে আমি, রুনা খানসহ অনেক তারকা আটকা পড়ে। এরপর ২৬ এপ্রিল আমরা দেশে ফিরে আসি। সেই কাগজপত্রগুলো আমার কাছে সব আছে।’

বাস্তবতার বিপরীতে এমন মামলার আসামি হয়ে অনেকটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন জয়। তার ভাষায়, ‘খুব দুঃখ পেয়েছি। জীবনে কখনও কাউকে গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পাইনি। কারও সঙ্গে ঝগড়া বিবাদেও যাইনি। সেখানে এমন একটি ঘটনায় আমি মর্মাহত। আমার পরিবারের মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে।’

যদিও এই ভিডিও বার্তা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য নিজেকে ‘নির্দোষ’ প্রমাণ করার জন্য নয়। ‘জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাওয়া ছিল অভিনেতার মূল লক্ষ্য।   

একই ভিডিও বার্তায় ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা না রাখতে পারায় তিনি জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। জয় বলেন, ‌‘ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা না রাখতে পারার জন্য আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাই জাতির কাছে। ক্ষমার চেয়ে বড় গুণ আর কিছু নাই। আপনারা নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা করবেন। সব শিল্পীর উচিত তার অবস্থান পরিষ্কার করা। আমার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম।’

এবার জানা গেলো ‘জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাওয়ার কারণ। কেননা দুদিন আগেই গণমাধ্যমকর্মীরা মামলাটি প্রসঙ্গে অভিনেতার কাছে জানতে চেয়েছিল। তিনি তখন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ৪৮ ঘণ্টার মাথায় তবে কী এমন ঘটলো, যার জন্য তিনি ভিডিও বার্তা দিয়ে ক্ষমা চাইলেন জাতির কাছে? সেই উত্তরও দিলেন অভিনেতা-উপস্থাপক। 

জয় জানান, ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এক সমন্বয়কের কাছে শিল্পীদের সম্পর্কে জানতে চান তিনি। তিনি খুব সুস্পষ্টভাবে জয়কে বলেছেন, ‘আপনাদের মাঝে অনেক শিল্পী রয়েছেন, যারা অন্যায় করেছেন। আপনারা আন্দোলনের সময় ছাত্রদের এ আন্দোলনকে সরকারের (আওয়ামী লীগ) হয়ে অন্যভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। অনেক রকম পোস্ট করেছেন এ আন্দোলনকে থামানোর, দমানোর। চেষ্টা করেছেন সরকারকে সহযোগিতা করার, সুবিধাভোগী হওয়ার। আপনারা বাংলাদেশ টেলিভিশনে গিয়ে কেঁদেছেন অনেকেই, অথচ শত শত, হাজার হাজার স্টুডেন্ট রাস্তায় গুলি খেয়ে মারা গেছেন, কত মায়ের কোল খালি হয়েছে। অনেকেই তা বোঝেনি, সরকারের চামচামি করেছে। সবসময় আপনারা মানুষের তোপের মুখে থাকবেন, ঘৃণার মুখে থাকবেন।’

নাম না প্রকাশ করে ওই নারী সমন্বয়কের বরাত দিয়ে জয় বলেন, ‘আপনারা শিল্পী, যাদেরকে মানুষ ভালোবাসে। আপনারা আপনাদের সংগঠন হোক, শিল্পী সমাজ হোক, সকলে একত্রিত হয়ে আপনারা জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন, ক্ষমা চান। ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আপনাদের আসলে আর কোনও পথ নেই।’

মূলত সমন্বয়কের এই পরামর্শের সূত্র ধরেই শাহরিয়ার নাজিম জয় ভিডিও বার্তায় এসে ‘জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা’ চেয়েছেন।

ভিডিওর শেষে বিগত সরকারের আমলে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধ করেছেন, সেই প্রকৃত আসামিদের বিচারের দাবিও তুলেছেন জনপ্রিয় এই উপস্থাপক।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম