প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার আর নেই। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
পাপিয়া সারোয়ারের স্বামী সারওয়ার আলম জানান, প্রয়াতের মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আগামীকাল জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই
গুণী এই শিল্পী কয়েক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। চার দিন ধরে ঢাকার তেজগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জীবনাবসান ঘটে তার।
পরিবার ও শিক্ষাজীবন
বরিশালে জন্মগ্রহণকারী পাপিয়া সারোয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে তিনি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীতে ডিগ্রি নেন। স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে তিনিই প্রথম ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে সেখানে স্নাতক করার সুযোগ পান।
তার দুই মেয়ে—জারা সারোয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব নিউ জার্সিতে জীববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক এবং জিশা সারোয়ার কানাডার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন নির্বাহী।
সংগীতজীবনের সাফল্য
পাপিয়া সারোয়ার রবীন্দ্রসংগীতের জন্য কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। পাশাপাশি আধুনিক গানেও তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে ‘নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন নাইরে টেলিগ্রাম’ গানটি তাকে আপামর বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে চিরস্মরণীয় করেছে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
দীর্ঘ সংগীতজীবনে পাপিয়া সারোয়ার বাংলা একাডেমি থেকে ২০১৩ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ অর্জন করেন। ২০২১ সালে তার কর্মজীবন চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায় একুশে পদকের মাধ্যমে।
শেষ বিদায়
তার মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সংগীতাঙ্গনে এক অমূল্য নক্ষত্রের পতন ঘটল। সংগীতপ্রেমী জাতি তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
