বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নাম পরিবর্তন করে আগের নাম ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ পুনঃস্থাপনসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন কারা নির্যাতিত বিডিআর পরিবারের সন্তানেরা।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বিডিআর সন্তান মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
দাবি সমূহ:
১. বিডিআর নাম পুনঃস্থাপন।
২. প্রহসনমূলক সব মামলা ও রায় বাতিল।
৩. কারাগারে থাকা নির্দোষ সব বিডিআর সদস্যের নিঃশর্ত মুক্তি।
৪. হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত পুনঃতদন্ত শুরু।
৫. রিমান্ডে নির্যাতনে নিহতদের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তি।
৬. চাকরিচ্যুত ১৮,৫২০ জন বিডিআর সদস্যের পুনর্বহাল।
৭. শহিদ সেনা ও বিডিআর এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ।
৮. ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিকে শহিদ সেনা দিবস ঘোষণা।
বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় অনেক নিরীহ সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কারাবন্দি। এসব নির্দোষ সদস্যদের মুক্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।”
ইতিহাসের পটভূমি:
বিডিআর এর প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল ‘ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস’ (ইপিআর)। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের পর এর নাম হয় ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ (বিডিআর)। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ সংঘটিত হলে ব্যাপক রক্তক্ষয় ও অস্থিরতা দেখা দেয়। এরপর ২০১১ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি)।
আয়োজকরা এই নাম পরিবর্তনের সমালোচনা করে বলেন, বিডিআর নামটি জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এবং তা পুনঃস্থাপন করা উচিত।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
