গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশ পরিচালনা করছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট এ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। শুরু থেকেই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও নানা চ্যালেঞ্জের কারণে জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে।
সংস্কার কমিশন ও সরকারের পদক্ষেপ
ক্ষমতায় আসার পরপরই নতুন সরকার নানা খাতে সংস্কারের জন্য একাধিক কমিশন গঠন করে। আজ শনিবার এসব কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তবে ছয় মাস পার হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক চক্রান্তের কারণে সরকারের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই শ্লথ হয়ে পড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, তবে পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া ১,৩৯২টি অস্ত্র ও ৩,৯১,৪৩৮ রাউন্ড গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার হয়নি। এছাড়া, কারাগার ভেঙে পলাতক ৭০০ অপরাধী এখনো অধরা। আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতিশ্রুত সহায়তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, যা তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, গণহত্যার বিচারের কাজ শুরু হয়েছে, তবে গতি খুবই মন্থর।
অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি কতটুকু?
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয়, পণ্যের দাম বাড়ছে, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। যদিও গত অক্টোবর থেকে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমছে, তবে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চিত নির্বাচন
নানান চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে انتخاباتের রোডম্যাপ এখনও অস্পষ্ট, যা জনমনে হতাশার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগামী নির্বাচনের তারিখ দ্রুত ঘোষণা করা না হলে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
"জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ১৫ বছর ধরে যারা অন্যায়-অনাচার করেছে, তাদের বিচার এখনও হয়নি। নতুন সরকার ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতেও ব্যর্থ হয়েছে।"
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ
"সরকার সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে, ততই ভালো হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি।"
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক
"গণহত্যার বিচারের কাজ শুরু হয়েছে, তবে গতি খুব ধীর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি, যা উদ্বেগের বিষয়।"
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু
"সরকারের কাজের মূল্যায়ন করলে ১০০-তে ৪০ নম্বর দেওয়া যায়। সামনে দ্রব্যমূল্য ও বিদ্যুৎ সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।"
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, গণহত্যার বিচার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ছয় মাসের পারফরম্যান্সই ঠিক করবে এই সরকারের ভবিষ্যৎ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
