বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-তে বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দেতে চলমান ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (এমসি১৪)-এ অংশ নিয়ে ২৭ ও ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত বিভিন্ন থিম্যাটিক সেশনে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। এ বিষয়ে এমসি১৪-এ একটি কার্যকর প্যাকেজ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধ নিষ্পত্তি ও সংস্কার
তিনি বলেন, ডব্লিউটিওতে একটি কার্যকর দুই-স্তরবিশিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা জরুরি। বিশেষ করে অ্যাপিলেট বডির কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল ও এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ বিচারিক কাঠামো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঐকমত্যভিত্তিক পদ্ধতি থেকে সরে গেলে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
মৎস্য ও কৃষি খাত
মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ক্ষতিকর ভর্তুকিতে বাংলাদেশের অবদান প্রায় শূন্য, অথচ বড় মাছ শিকারি দেশগুলোর কারণে সামুদ্রিক সম্পদ হুমকির মুখে। তিনি বড় দেশগুলোর ভর্তুকির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জেলেদের জন্য সম্পূর্ণ অব্যাহতির দাবি জানান।
কৃষি খাতে খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনের স্বার্থে পাবলিক স্টকহোল্ডিং ইস্যু এবং উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য বিকৃতকারী ভর্তুকি বন্ধের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
বিনিয়োগ চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি
সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশ ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’-এ ১২৯তম সদস্য হিসেবে যোগদানের ঘোষণা দেয়। ডব্লিউটিও কাঠামোর অধীনে এটিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ চুক্তি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
মেধাস্বত্ব ও জনস্বাস্থ্য
ট্রিপস চুক্তির আওতায় জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার রক্ষায় ‘নন-ভায়োলেশন ও সিচুয়েশনাল কমপ্লেইন্টস’-এর ওপর স্থগিতাদেশ পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত বজায় রাখার পক্ষে মত দেয় বাংলাদেশ। মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা বজায় রাখতে এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিভাজন ও একতরফা পদক্ষেপের কারণে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ডব্লিউটিও সংস্কার প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া জরুরি, যাতে একটি সমতাভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
