আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় সংগীতশিল্পী, অভিনেত্রী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি মূলত হিন্দি চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার জন্য বিখ্যাত।
তার বহুমুখী প্রতিভার কারণে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সংগীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৪৩ সাল থেকে শুরু করে তিনি আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ১২,০০০ গান গেয়েছেন।
আশা ভোসলে ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে প্রেসিডেন্সির (বর্তমান মহারাষ্ট্র) সাঙ্গলিতে একটি বিখ্যাত সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন মারাঠি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী এবং মঞ্চ অভিনেতা। তিনি ভারতের সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন। পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরতে মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি 'মাজা বাল'-এ 'চালা চালা নাভ বালা' গানের মাধ্যমে প্রথম প্লেব্যাক করেন আশা ভোসলে।
শুরুর দিকে লতা মঙ্গেশকর, গীতা দত্তদের ভিড়ে তাঁকে প্রধানত পার্শ্ব চরিত্রের গানের জন্য বেছে নেওয়া হতো। তবে ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সুরকার ও. পি. নায়ারের সাথে কাজ শুরু করার পর তাঁর ভাগ্য বদলে যায়।
১৯৫৭ সালে বি আর চোপড়ার 'নয়া দৌড়' চলচ্চিত্রের গানগুলো তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
পরবর্তীতে সুরকার আর. ডি. বর্মণ এর আধুনিক ও ওয়েস্টার্ন মেলোডির সাথে আশার কণ্ঠের যুগলবন্দী ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
'দম মারো দম', 'পিয়া তু অব তো আজা', 'ইয়ে মেরা দিল'-এর মতো গানের পাশাপাশি 'উমরাও জান' (১৯৮১) চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া 'দিল চিজ ক্যায়া হ্যায়'-এর মতো ধ্রুপদী গজল শ্রোতাদের আজও মুগ্ধ করে।
বহুমুখী প্রতিভায় খ্যাত আশা ভোঁসলে চলচ্চিত্রের গান, পপ, গজল, ভজন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, লোকসংগীত, কাওয়ালি ও রবীন্দ্রসংগীতে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। হিন্দি ভাষা ছাড়াও তিনি ২০টি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গান গেয়েছেন। ২০১৩ সালে মাই চলচ্চিত্র তিনি অভিনয়ের নাম লেখান এবং তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ২০০৬ সালে আশা ভোঁসলে জানিয়েছিলেন দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ১২,০০০ এরও বেশি গান গেয়েছেন। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আশা ভোঁসলেকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে ঘোষণা করে।
আশা ভোঁসলে দুইটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আঠারোটি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা-সহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং দুইটি গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আশা ভোঁসলে সাতবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৭ সালের পর তিনি জানান তার নাম যেন আর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য গণ্য করা না হয়। ২০০১ সালে তিনি 'ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার' পান। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এ ভূষিত হন তিনি। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে। এছাড়া ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ ও ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন।
তার সংগীত জীবনকে বিশ্লেষণ করলে চারটি সিনেমাকে চিহ্নিত করা যায়। এগুলো তার ক্যারিয়ারের মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। এ ছবিগুলো হলো: নয়া দৌড় (১৯৫৭), তিসরি মঞ্জিল (১৯৬৬), উমরাও জান (১৯৮১) এবং রঙ্গীলা (১৯৯৫)।
হৃদযন্ত্র ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় আশা ভোঁসলেকে ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিংবদন্তি এই গায়িকা ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
